শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:৩৩ পিএম, ২০২৬-০১-১১
বনানী হোটেল শেরাটন-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কিছু মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে তারেক রহমান বাংলাদেশের গত ১৭ বছরের ইতিহাস নাকি ঠিকভাবে জানেন না—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা।
এই প্রসঙ্গে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট জাহেদ রহমান। তার ভাষায়, মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য শুধু তথ্যগতভাবে ভুলই নয়, বরং রাজনৈতিক হতাশা ও ন্যারেটিভ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান দাবি করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্যাতিত সাংবাদিকদের পক্ষে কেউ কথা বলেনি, বিশেষ করে মিডিয়া সম্পাদকরা নীরব ছিলেন। জাহেদ রহমান বলেন, এই বক্তব্য একেবারেই সঠিক নয়।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নয়াদিগন্ত, সংগ্রামসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হামলার সময় প্রতিবাদ হয়েছে, বিবৃতি এসেছে, সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি মাহমুদুর রহমান নিজেও সে সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তার রক্তাক্ত শার্ট শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের একটি প্রতীক হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে। জাহেদ রহমান আরও বলেন, তারেক রহমান নিজেও তার বক্তব্যে স্বীকার করেছেন—স্বৈরাচারী শাসনের মধ্যেও যতটুকু সম্ভব ছিল, ততটুকু প্রতিবাদ হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে আরও বলেন, তারেক রহমান ১৭ বছর দেশে ছিলেন না, ফলে দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানেন না; বরং আশপাশের লোকজন ও “মিডিয়ার নতুন বন্ধুদের” কাছ থেকেই শুনে ধারণা নিয়েছেন।
এই যুক্তিকে “সরলীকৃত ও বিভ্রান্তিকর” বলে আখ্যা দেন জাহেদ রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মাহমুদুর রহমান নিজেও তো গত ছয় বছর দেশে ছিলেন না। তুরস্কে ছিলেন। তাহলে কি দেশে থাকার সময়ের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী ইতিহাস জানার যোগ্যতা নির্ধারিত হবে?
তিনি বলেন, নিজে শেখ হাসিনার শাসনামলে এক সেকেন্ডের জন্যও দেশ ছাড়েননি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিন পর্যন্ত দেশে ছিলেন। তাহলে কি তিনি দাবি করবেন, তারেক রহমান বা মাহমুদুর রহমানের চেয়েও তিনি ইতিহাস বেশি জানেন? এই যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্যে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তারেক রহমানের একটি তুলনা টানেন। জাহেদ রহমানের মতে, এই তুলনা উদ্ভট এবং হাস্যকর। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আর তারেক রহমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বিদেশে থেকেও মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশে সংযুক্ত থাকতে পেরেছেন—ফোন, ভিডিও কল ও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে।
বিদেশে বসেই তিনি দল পরিচালনা করেছেন, তৃণমূল পর্যন্ত নির্দেশনা দিয়েছেন, আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাই এই দুই পরিস্থিতিকে এক করে দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। জাহেদ রহমান বলেন, তারেক রহমান শুধু বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস জানেনই না, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার ও সমন্বয়কারী ছিলেন।
তার নেতৃত্বেই বিএনপি ভাঙেনি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলটিকে বিভক্ত করতে পারেনি। তিনি বিদেশে থেকেও দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। এসব বিষয়ে ডকুমেন্ট ও তথ্য বিদ্যমান বলেও দাবি করেন তিনি।
জাহেদ রহমান মনে করেন, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক হতাশা ও ক্ষোভ। মাহমুদুর রহমান হয়তো বিএনপির ওপর আগের মতো প্রভাব রাখতে পারছেন না। পাশাপাশি কিছু গোষ্ঠীর “বিপ্লবী সরকার”, “সংবিধান বাতিল”, “ডিক্রির শাসন”—এই ধরনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে।
এই ন্যারেটিভে বলা হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব একচেটিয়াভাবে তাদের; ইসলামিস্ট ও অন্যান্য গোষ্ঠীর কারণেই নাকি তারেক রহমান দেশে ফিরতে পেরেছেন, তিনি নাকি এসব জানতেনই না। জাহেদ রহমান বলেন, বাংলাদেশের গত ১৭ বছরে কী ঘটেছে, তার সাক্ষ্য দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট, তথ্য ও মানুষ রয়েছে। তারেক রহমানের যদি আরও তথ্য প্রয়োজন হয়, দেশে ও দেশের বাইরে বহু মানুষ তা দিতে পারবেন।
কিন্তু শুধু দেশে থাকার ভিত্তিতে ইতিহাস জানার দাবি যেমন অবান্তর, তেমনি তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাস জানেন না—এই বক্তব্যও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, এই ধরনের মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক ফ্রাস্ট্রেশন থেকেই এসেছে, যা বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় আর কার্যকর নয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত