এলপি গ্যাসের দামে চরম নৈরাজ্য, ১২ কেজি ৪ হাজার ১০০

Passenger Voice    |    ০৪:২৭ পিএম, ২০২৬-০১-১১


এলপি গ্যাসের দামে চরম নৈরাজ্য, ১২ কেজি ৪ হাজার ১০০

‘কয়েক দোকান ঘুরে খিলগাঁও এলাকার তিতাস রোডের নবীনবাগ আলী এন্টারপ্রাইজ গ্যাস দিতে রাজি হয়। কিন্তু ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম নেয় ৪ হাজার ১০০ টাকা। অবাক লাগছে। দেশে চরম নৈরাজ্য শুরু হয়েছে, যে যার মতো দাম আদায় করছেন।’  এলপি গ্যাসের বাড়তি দাম নেওয়ার ব্যাপারে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই এলাকার কাজী সালাহউদ্দিন রাজু। 

লালবাগের পোস্তা এলাকার গৃহিণী হোসনে আরাও অভিযোগ করে জানান, গতকাল শনিবার তাকে ২ হাজার ৯৫০ টাকায় ১২ কোজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। শুধু এরাই নন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, মালিবাগ এলাকায় একই চিত্র দেখা গেছে। সরকার নির্ধারিত ১৩০৬ টাকা তো দূরের কথা, কোনো কোনো জায়গায় দ্বিগুণ দামেও মেলেনি গৃহস্থালির এই গ্যাস।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) কারওয়ান বাজারে মেসার্স জনতা ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা এলপি গ্যাস কেনার জন্য আসছেন। কিন্তু ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হক জানান, ‘গ্যাস নেই। কারণ কোম্পানি থেকে আগের মতো দিচ্ছে না। অল্প অল্প করে দিচ্ছে। তাহলে পাব কোথায়? কাজেই সরকার ও কোম্পানিকে দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে হবে।’

মোহাম্মদপুরসহ অন্য এলাকাতেও বেশি দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তারা অভিযোগ করে আরও জানান, কোনো কোনো ডিলার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছেন। কিন্তু তারা সেই গ্যাসের ট্রাক দোকানে না এনে বাইরে থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। নীরবে চলছে যথেচ্ছাচার।

অটোগ্যাস স্টেশনে ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবি
এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর। গাড়ির মালিক ও চালকরা জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারায় অনেক যানবাহন এবং যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, অর্থাৎ মোট ব্যবহারের ১০ শতাংশ এলপিজি অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

অথচ এই পরিমাণ এলপিজি গ্যাস স্টেশনে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো অটোগ্যাস খাত আজ চরম বিপর্যয়ের মুখে। এই শিল্প ধ্বংস হলে প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক-শ্রমিক চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। বাধ্য হয়ে তারা এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা দেশের জ্বালানি ভারসাম্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সঙ্গে এতে হাজার হাজার অটোগ্যাস স্টেশনমালিক ও কর্মচারী সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন। 

মেরামত হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক
এদিকে গতকাল মিরপুর রোডে গণভবনের সম্মুখে ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে যায়। সৃষ্ট লিকেজ মেরামতের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্কের বেশ কয়েকটি ভালভ বন্ধ করে চাপ সীমিত করা হয়। এতে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলীসংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ দেখা যায়। পরে এই ক্ষতিগ্রস্ত ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ভালভটি নতুন ভালভ দিয়ে প্রতিস্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয় বলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়।

 

 

প্যা.ভ.ম