ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সুকুক বাজার গড়ে তোলা দরকার: গভর্নর

Passenger Voice    |    ১২:৪৬ পিএম, ২০২৬-০১-১১


ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সুকুক বাজার গড়ে তোলা দরকার: গভর্নর

দেশের ব্যাংক খাতের এক-চতুর্থাংশ সম্পদ শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত। এর পরও ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তুলনামূলক কম। এতে ইসলামী ব্যাংকগুলোয় তারল্য ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়। তাদের জন্য প্রতিযোগিতার বাজারও ছোট হয়ে পড়ে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিপুল মানুষের পছন্দ ইসলামী ধারার আর্থিক ব্যবস্থার জন্য শরিয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংকগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা হলো তারল্য ব্যবস্থাপনা। শরিয়াহভিত্তিক মানি মার্কেট ও সুকুক বাজার না থাকায় ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। সরকারের উচিত ইসলামী বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলা। এতে সরকারের অর্থায়ন খরচ কমবে এবং ব্যাংকগুলোও তারল্য ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাবে।’

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর। সেন্ট্রাল শরিয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ঢাবির ফাইন্যান্স বিভাগ যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকিং কোনো আবেগী বা শুধু ধর্মীয় যাত্রা নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং জনগণের সচেতন পছন্দের ফল এবং এটি ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে। বর্তমানে দেশের মোট আর্থিক সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে, যা দ্রুত বাড়ছে। জনগণ ইসলামী ব্যাংকিং বেছে নিয়েছে। কিন্তু সেই পছন্দের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বও বেড়েছে। আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো এ সম্পদ যেন দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয় এবং আমানতকারীরা সর্বোচ্চ রিটার্ন পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে ইসলামী ব্যাংকিং হওয়া উচিত সবচেয়ে নিরাপদ ঋণ ব্যবস্থা। কারণ এটি সম্পদ ও আয়ের ধারার সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে সেই নীতির যথাযথ প্রয়োগ হয়নি। আমাদের ইসলামী ব্যাংকগুলো অপব্যবহৃত হয়েছে।

কিছু গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত দখল করে নিয়েছে। এর ফলে গ্রাহক ও আমানতকারীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক খাতে অনিয়মের দায় শুধু রাজনীতিবিদ বা একটি গোষ্ঠীর নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, শরিয়াহ বোর্ড ও আমানতকারীরাও সম্মিলিতভাবে দায়ী। কারণ, সবাই যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি। আমানতকারীদের টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে প্রশ্নও আমানতকারীরা তোলেনি।’

দেশে প্রতিযোগিতামূলক বড় দুটি ইসলামী ব্যাংকের আশার কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে এবং দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের (ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি) পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করি, দেশের বাজারে বড় দুটি ইসলামী ব্যাংক থাকবে এবং তারা আমানতকারীদের সর্বোচ্চ রিটার্ন দিতে সুস্থ প্রতিযোগিতা করবে।’

ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা আইন প্রণয়ন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, ‘নতুন ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন ইসলামী ব্যাংকিং বিভাগ গঠন করা হয়েছে, যা পুরোপুরি ইসলামী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে নিয়োজিত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতাও নেয়া হচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ইসলামী অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন। দুদিনে আটটি অধিবেশনে মোট ৪০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।