এশিয়ার স্পট মার্কেটে কমেছে এলএনজির দাম

Passenger Voice    |    ১২:০২ পিএম, ২০২৬-০১-১১


এশিয়ার স্পট মার্কেটে কমেছে এলএনজির দাম

আঞ্চলিক নিম্নমুখী চাহিদা ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চলতি সপ্তাহে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরো কমেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ৫০ সেন্ট। এটি আগের সপ্তাহের এমএমবিটিইউয়ে ৯ ডলার ৬০ সেন্টের তুলনায় কিছুটা কম। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘ডিসেম্বরে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এলএনজির চাহিদা নিম্নমুখীই রয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো স্পট মার্কেটে মজুদ করেনি। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো কয়লাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত মাসে সিউলে রেকর্ড নিম্ন তাপমাত্রার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত কিছু কার্গো দক্ষিণ কোরিয়ায় ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব কার্গোর মাধ্যমে দেশটি মজুদ পুনরায় পূরণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ১১ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্যের তুলনায় ৫২ সেন্ট কম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতল আবহাওয়ার কারণে এলএনজির ব্যবহার বাড়লেও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কম থাকায় ইউরোপকে স্পট কার্গোর ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে।

এদিকে আর্গাস একই কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ৮ ডলার ৯৮ সেন্ট নির্ধারণ করেছে। আর স্পার্ক কমোডিটিজ তা নির্ধারণ করেছে এমএমবিটিইউয়ে ৮ ডলার ৯৩ সেন্ট।

গবেষণা ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ইকুইলিব্রিয়ামের হেড অব এনার্জি রিসার্চ হান্স ভ্যান ক্লিফ বলেন, ‘ইউরোপের বড় অংশে তাপমাত্রা এখনো দীর্ঘমেয়াদে গড়ের তুলনায় কম। তবে আগামী সপ্তাহে তা বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ফলে আবহাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা কমে আসছে।’

অন্যদিকে স্বতন্ত্র গ্যাস বিশ্লেষক সেব কেনেডি জানান, বড়দিনের সময় বিনিয়োগ তহবিলগুলো টিটিএফ ফিউচারসে তাদের নিট শর্ট অবস্থান কমিয়েছে। শীতল আবহাওয়া ও কম লেনদেনের কারণে তাৎক্ষণিক দাম বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এলএনজি পরিবহন ব্যয়ও গত সপ্তাহে কমেছে। স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যটির পরিবহন ব্যয় টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো কমে দৈনিক ৪৮ হাজার ডলারে নেমেছে। একই সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা কমে দৈনিক ৪৪ হাজার ২৫০ ডলারে স্থির হয়েছে।

 

 

প্যা/ভ/ম