শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০১ এএম, ২০২৬-০১-১১
সুদের হার কমানো কোনো একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সুদের হার কমানো নিয়ে অনেক সময় সহজ সমাধানের কথা বলা হয়।
কিন্তু বাস্তবতা হলো একদিকে সুদ কমালে অন্যদিকে অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়। ট্রেজারি বিল, ব্যাংকিং খাত ও বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না রেখে সুদের হার কমালে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ট্রেজারি বিলের সুদহার এরই মধ্যে কমেছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এর প্রতিফলন ধীরে ধীরে বাজারে আসবে। তবে যদি ট্রেজারি বিল বা সঞ্চয়পত্রের সুদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংকে আমানত রাখা কমে যাবে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের মূল কাজ হলো সঞ্চয় ও ঋণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি করা। ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। এই কাঠামো দুর্বল হলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ব্যাংকিং অ্যালমানাক প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি বিনিয়োগের সরাসরি নির্দেশনা না দিলেও ব্যাংক খাত বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ডেটা সোর্স।
এতে পেইড-আপ ক্যাপিটাল, অথরাইজড ক্যাপিটাল, ক্যাপিটাল রেশিও, প্রভিশনিং, রিটেইন্ড আর্নিংস এবং ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। তিনি জানান, নানান সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংক খাতের সংকটাপূর্ণ অবস্থা ছিল। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু ব্যাংকের প্রভিশনিং ও ঋণ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।এসব পরিবর্তনের প্রতিফলন ব্যাংকিং অ্যালমানাকে উঠে এসেছে।
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বাজার তদারকি এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তা পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান আসবে না। এ সময় গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশকে সবসময় নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি। বাংলাদেশ নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হুবহু সিঙ্গাপুরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো নয় বরং ধৈর্য, চেষ্টা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সময় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে। জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে নয় বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নীতিনির্ধারণ করতে হয়। নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয় এবং এখানে ভুল থাকার সম্ভাবনাও থাকে। নীতি নেওয়া খুব সহজ কাজ না। অনেক সময় জনপ্রিয় বা পপুলিস্ট ডিমান্ড আসে-কেউ বলে সুদের হার কমান, কেউ বলে কর কমান। সবাই বলে ‘আমি, আমি’, কিন্তু ‘আমরা’ বলে না। অথচ নীতি তো একজনের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত