অব্যাহতভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

Passenger Voice    |    ১২:৫৪ পিএম, ২০২৬-০১-০৭


অব্যাহতভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ডলার কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৫৪ কোটি ৬৫ লাখ বা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই কিনেছে ৪১ কোটি ডলার। ডলার কেনার বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

এতে করে ব্যাংকগুলোতে টাকার সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডলারের দর না কমে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। মূলত অর্থ পাচারে কড়াকড়ির পর থেকে প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবাহের কারণেই ডলার সরবরাহ বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ডলার কেনাবেচা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত একটি কাজ। যখন বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি থাকে তখন বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে। আবার যখন বাজারে ডলারের সংকট তৈরি হয়, তখন বাজারে ডলার সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি। তাই বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে এখন ডলার কেনা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার পরিমাণ ৩২৩ কোটি ডলার। এ ছাড়া ২০২৫ সালে প্রবাসীরা ৩২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ২৮১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড। রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে গত সোমবার ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। 

 

 

প্যা/ভ/ম