শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:২১ এএম, ২০২৬-০১-০৫
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে রাজস্ব আদায়ও। চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। প্রথমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৯২ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২ লাখ ২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। এই বন্দর থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস রাজস্ব আদায় করেছে ৩১ হাজার ৬০২ দশমিক ৩৭ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থ বছরের রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। ওই বছর আদায় হয়েছে ৬১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। আদায় হয় ৬৮ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ছিল ৮৩ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা। পরে রাজস্ব আদায়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ৮০ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। ওই বছর আদায় হয় ৭৬ হাজার ১৪২ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা।
কাস্টমস সূত্র আরও জানিয়েছে, ২৭ বছর আগে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। আদায় হয় ৬ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৬ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৬ হাজার ৮২ কোটি টাকা। ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৭ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। ২০০১-২০০২ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, ‘কাস্টমসের সেবায় এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিড়ম্বনা চলছে। বিভিন্ন সময়ে সার্ভার ডাউন, পণ্যের এক্সামিনে সমস্যাসহ নানা ধরনের সমস্যা এখনও বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধান হলে কাস্টমসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, ‘প্রতি বছরই বিগত বছরের তুলনায় টার্গেট বাড়ানো হয়। সে হিসাবে এবার রাজস্ব আদায়ের টার্গেট ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে যে লক্ষ্যমাত্রা আছে তা সঠিকভাবে আদায়ে কাজ চলছে। রমজানকে সামনে রেখে এই মুহূর্তে ভোগ্যপণ্য আমদানি বেশি হচ্ছে। আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়ছে। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য যেটা, সেটাও বেড়েছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা যাবে।’
প্রতি বছরই চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের পণ্য আমদানি-রফতানির প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডলিং করে। ২০২৫ সালে এ বন্দর ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস (২০ ফুট হিসেবে) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউএস কনটেইনার, ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৪০৬টি জাহাজ বেশি হ্যান্ডলিং হয়েছে। এবার কনটেইনারে ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, কার্গোতে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জাহাজে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’
তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেম, পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম প্রবর্তন, ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে বিশ্বমানের বন্দরে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএস কোস্টগার্ড আইপিএসের অফিসিয়াল রিপোর্টে জিরো অবজারভেশন পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালে বন্দরে ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। প্রচুর হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্দরের ভারী কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য লালদিয়া (ব্লক এ, উত্তর) এলাকায় জেটি তৈরি করা হচ্ছে। বে টার্মিনালে একটি মাল্টিপারপাস ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি জিটুজি পদ্ধতিতে পিএসএ (সিঙ্গাপুর) এবং অপরটি ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই) পরিচালনা করবে।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত