চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন

Passenger Voice    |    ০৫:১৪ পিএম, ২০২৬-০১-০৪


চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন

ঢাকাই সিনেমার খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র পরিচালক আব্দুল লতিফ বাচ্চু মারা গেছেন। রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন।

বেশ কিছুদিন ধরেই তার ফুসফুস সংক্রমিত হয়। এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস, কিডনির জটিলতাও ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ বছরের জুলাইয়ে দেশের বাইরেও নেওয়া হয় তাকে। এরপর দেশে আনা হলে সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। রবিবার ৪ (জানুয়ারি) সকাল থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এরপর দ্রুত ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে জানান, তিনি মারা গেছেন।

জানা গেছে, আব্দুল লতিফ বাচ্চুর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী, তাদের দেশে ফেরা পর্যন্ত বাবার মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে এবং ফেরার পর দাফনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। তার চলচ্চিত্রজীবনের শুরু প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে। সে সময় তিনি ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’ ও ‘দর্পচূর্ণ’-এর মতো সিনেমায় কাজ করেন। ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমার মাধ্যমে চিত্রগ্রাহক হিসেবে একক যাত্রা শুরু করেন।

স্বাধীনতার পর ‘অবুঝ মন’ সিনেমায় চিত্রা জহির ও কাজী জহিরের সঙ্গে কাজ করে নিজের জায়হা আরো পাকা করেন। পরিচালক হিসেবে তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘বলবান’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’ ও ‘প্রতারক’।  এর মধ্যে ‘নতুন বউ’ সিনেমাটি পরিচালক হিসেবে খ্যাতি এনে দিয়েছিল তাকে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাচসাস পুরস্কারের পাশাপাশি ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কারেও ভূষিত হন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। শুধু নির্মাণেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল। সরকারি সেন্সর বোর্ড ও জুরি বোর্ডে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। খ্যাতিমান এই চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গণে।


প্যা/ভ/ম