শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৫৬ পিএম, ২০২৬-০১-০১
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে আহত হয়েছেন চারঘাটের রায়হান ইসলাম (৪০)। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার দুই পা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে আহত রয়হানের ভাগ্নে মনিরুল ইসলাম এ কথা জানান। আহত রায়হানের বাড়ি চারঘাটের খুঁটিপাড়ায়। তার বাবার নাম আব্দুল জলিল।
মনিরুল ইসলাম বলেন, রাহানের দুই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর মধ্যে তার ডান পা কোমড়ের (জাং) নিচ থেকেও বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আমরা হাসপাতালে এসে তাকে আহত অবস্থায় পেয়েছি। তখন তার বিচ্ছিন্ন পা ছিল না। শুনলাম নাটোরের সানাইখালির নিহত সেন্টের লাশের সঙ্গে এক পা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লোকজন পাঠানো হয়েছিল তবে সেটা রায়হানের পা না।
তিনি আরও বলেন, রায়হান ছোটবেলা থেকে কলার ব্যবসা করে। তার পেশা হাটে কলা কিনে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা। বৃহস্পতিবার হাটের দিন ছিল। তাই রায়হান ভোরে চারঘাটের বাড়ি থেকে পুঠিয়ার বানেশ্বরের কলা হাটে আসেন। এরপর দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। হাসপাতালে তার সঙ্গে স্ত্রীসহ স্বজনরা রয়েছেন। এছাড়াও সংসার জীবনে রায়হানের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এছাড়া রায়হানের স্ত্রী গৃহিণী। আমরা তার পা খোঁজার চেষ্টা করছি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে আহত হন চারঘাটের রায়হান।
নিহতরা হলেন- নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার শাহিনের ছেলে সিয়াম (১৫), সদরের পাকিপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনকের (৩৫) বাগাতিপাড়া সালাইনগরের সৈয়দ উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) ও চারঘাটের অস্কারপুরের মৃত মাহাতাবের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, রোগীর দুটি পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিল। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে পবা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, আমরা তো মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। মরদেহ উদ্ধার ও বডি ব্যাগে (মরদেহ বহনের ব্যাগ) প্যাকেট করার কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিস্তারিত তারা বলতে পারবেন। আর নিহতের স্বজনরা আসছেন এ বিষয়ে মামলা হবে।
এ বিষয়ে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ সরোয়ার হোসাইন বলেন, নাটোর থেকে ফোন দিয়েছিল, তারা বলছে এক টুকরা পা বেশি এসেছে। আমি তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। আসলে এ ঘটনায় তিনজনের হাত পা ছিড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কয়েকজনের পেট ফেটে নারিভুরি বের হয়ে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত