শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৪২ এএম, ২০২৫-১২-২৮
বিমা আর্থিক খাতের একটি অপরিহার্য অংশ হলেও বাংলাদেশে এর প্রসার সীমিত। আগে বিমা বলতে মানুষের মৃত্যুর পর সুবিধা পাওয়া যাবে– এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। অর্থাৎ জীবিত মানুষের সঙ্গে এর তেমন সম্পর্ক নেই। কিন্তু দেরিতে হলেও সেই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে। তবে বিমা গ্রহীতার সংখ্যা এখনো নগণ্য। বিমা জীবনের অনিশ্চয়তা, যেমন দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা সম্পত্তির ক্ষতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। বিশ্বব্যাপী বিমা খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা এখনো অনেকাংশে অব্যবহৃত রয়ে গেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিমার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৩ সাল থেকে। দেশে এখন ৮১টি বিমা কোম্পানি কাজ করছে। কিন্তু ৫২ বছর পার হলেও বাংলাদেশের বিমা খাত সেভাবে বিস্তৃত হয়নি। সরকারি হিসেবে বিমার আওতায় আছেন মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বিমা খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুশাসনের অভাব, দুর্বল বিনিয়োগ কৌশল, সীমিত পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ডিজিটালাইজেশনের অভাব একে পিছিয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, বিমা খাতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশাসন, দক্ষ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব বিমাপণ্য সরবরাহ করা। সেই সঙ্গে বিমা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নীতিবান মানবসম্পদ, আইডিআরএর সঠিক নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
উন্নত বিশ্বে ব্যক্তির হঠাৎ মৃত্যু কিংবা দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক ক্ষতি কমাতে জীবন বিমা প্রচলিত একটা মাধ্যম। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির ব্যয়ের বোঝা কমাতে স্বাস্থ্যবিমা অনেক দেশেই ব্যাপক প্রচলিত। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও বিমা খাত সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি।
বিমা কোম্পানিগুলোর আয় মূলত গ্রাহকদের প্রদত্ত প্রিমিয়াম থেকে আসে। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভবিষ্যতে গ্রাহকের দাবি পরিশোধের জন্য এই তহবিলই মূল ভিত্তি। এখানে ঘাটতি হলে সব জায়গায় ঘাটতি দেখা দেয়। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ বিমা কোম্পানি তাদের তহবিল ব্যাংক ডিপোজিট, সরকারি বন্ড ও কিছু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগে বিমা কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
তারা বলেন, সুশাসনের অভাবেই অনেকটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশের বিমা খাত। অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে অনিয়ম, প্রিমিয়াম ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্বসহ একাধিক কারণে জনগণের আস্থা হারিয়েছে। বাংলাদেশ বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) একাধিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বিমা কোম্পানি সঠিকভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে পাওয়া প্রিমিয়াম বিনিয়োগ না করে অনৈতিক পথে পরিচালনা করছে। এর জন্য জরিমানা করা হয়েছে ওই সব কোম্পানিকে। এর পরও কয়েকটি বিমা কোম্পানি নিজেদের লুটপাটের জন্য এই খাতকে বেছে নিয়েছে।
খাত বিশেষজ্ঞ ও চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের সাবেক সিইও জিয়াউল হক দেশীয় জাতীয় সংবাদমাধ্যম খবরের কাগজকে বলেন, ব্যাংকিং খাত প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত। এখানে কোনো একটি ব্যাংক অন্যায় করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করতে পারে। কিন্ত বিমা খাত এখনো সে পর্যায়ে যেতে পারেনি। ফলে বিমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করলেও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না। তিনি বলেন, বিমা খাতকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করা সম্ভব হলে গ্রাহক প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার তথ্য জানতে ও দেখতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন বিমার প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে, অন্য দিকে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরবে।
জিয়াউল হক বলেন, দেশের বিমা খাত ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশ ভারত–পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। গত বছরও পিছিয়ে থাকা নেপাল এখন বাংলাদেশের সমপর্যায়ে উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিতে বিমা খাতের অবদান বাড়াতে হলে ডিজিটালাইজেশনে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
জিডিপিতে কমছে বিমা খাতের অবদান
বিশ্বের প্রায় সব দেশে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান বাড়ছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমারও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। অথচ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান বাড়ার পরিবর্তে কমছে। বর্তমানে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ; যা দুই বছর আগেও ছিল প্রায় ১ শতাংশ। অর্থনীতিতে বিমা খাতের অবদান বাড়াতে হলে এর ডিজিটালাইজেশনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে জনগণের সচেতনতাও বাড়াতে হবে।
বিমা দাবি পরিশোধে আস্থাহীনতা
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সবশেষ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিকে বিমা দাবি পরিশোধের করুণ চিত্র দেখা গেছে। এই সময়ে সাধারণ বিমা খাতে মোট বিমা দাবির মাত্র ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ পরিশোধ হয়েছে। অর্থাৎ ৯১ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাবিই পরিশোধ করেনি। অন্যদিকে, জীবন বিমা খাতে মোট বিমা দাবির ৩৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে। আর অনিষ্পন্ন বিমা দাবি ৬৫ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে উভয় খাতে অনিষ্পন্ন দাবির পরিমাণ অনেক বেশি। লাখ লাখ গ্রাহক বিমা দাবি নিষ্পত্তির জন্য কোম্পানিগুলোর দরজায় ঘুরছে। ফলে এই খাতে বাড়ছে আস্থার সংকট। এই আস্থাহীনতার মূল কারণ মেয়াদ শেষে বিমার টাকা যথাসময়ে ফেরত না পাওয়া কিংবা প্রতারণার শিকার হওয়া। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, বিমা খাতের বিস্তার না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আস্থাহীনতার কথা। আর এই আস্থাহীনতার মূল কারণ পাওনা দাবি নিষ্পত্তি না হওয়া, যা দীর্ঘদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিমা খাতে এমন দীর্ঘ প্রতারণার ইতিহাস এবং এর কারণে আস্থাহীনতা কমাতে বিমা কোম্পানি কিংবা এর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রিমিয়াম ও সম্পদে মিশ্র প্রবণতা
সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা বিআইএ-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জীবন বিমা খাতে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলির প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৫১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ছিল, যা ২০২৪ সালে কমে হয়েছে ১১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রিমিয়াম আয় সামান্য কমেছে। ২০২৪ সাল শেষে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ২৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালে ছিল ৩১ হাজার ৯১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে বিনিয়োগও বেড়েছে। জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ২০২৩ সালে ছিল ৩৩ হাজার ৪৬১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৩৪ হাজার ২৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর কোম্পানিগুলোর সম্পদ ২০২৪ সাল শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালে ছিল ৪৪ হাজার ১৪১ কোটি ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর ২০২৩ সালে সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৬৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১১ হাজার ৯১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। আর ২০২৩ সালে বিনিয়োগ ছিল ৫ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে কমে ৫ হাজার ৬১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সাধারণ বিমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ২০২৩ সালে ছিল ৪ হাজার ২৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৩৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বিমা আইন সংশোধনের আগে আইডিআরএর সংস্কার জরুরি
বিমা খাতের সংস্কারের কথা বলে বিদ্যমান বিমা আইন, ২০১০-এর সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমা খাতের সংস্কারের আগে দরকার খাতটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর সংস্কার। তারা বলেন, যেহেতু বিমা খাত অনুন্নত এবং অবহেলিত, জনগণ বিমা সম্পর্কে সচেতন নয় এবং বিমার তত জ্ঞান নেই, তাই নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এ খাতের উন্নয়নও দরকার। কিন্তু আইন সংশোধনের প্রস্তাবে উন্নয়নের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিমা খাত সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি আইডিআরএ। সংস্থাটি আইন সংশোধনের উদ্যোগ ছাড়া এ খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। জীবনবিমা খাতের যেসব কোম্পানির তহবিল তছরুপ হয়েছে তা উদ্ধার, গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ এবং তহবিল তছরুপে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নন-লাইফ বিমা খাতেও অবৈধ কমিশন বন্ধ ও দক্ষ জনবল তৈরিতেও করতে পারেনি কিছু। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ এখনো চলছে প্রেষণে আসা সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে। যাদের বেশির ভাগেরই বিমাবিষয়ক অভিজ্ঞতা নেই। ফলে বিমা আইন-২০১০-এর যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে কি না, আইন সংশোধনের আগে সে বিষয়টি আরও ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতে পলিসি বাতিলের কৌশল
প্রতিবছর যে পরিমাণ নতুন পলিসি হচ্ছে তার চেয়ে বেশি বাতিল হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগে পলিসি বাতিল হলে সেই টাকা বিমা কোম্পানি পেয়ে যায়। ফলে কোম্পানিগুলোও বাতিল হওয়া ঠেকাতে সেভাবে উদ্যোগী হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশে বেশ বড় সংখ্যায় পলিসি বাতিল হচ্ছে প্রতিবছর। এ ছাড়া বিমা করলে কী উপকার হবে, বিমা পলিসি কখন, কী কারণে বাতিল হবে-সেসব বিষয়ে কোম্পানির এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেন না গ্রাহকদের। বিমার পলিসিগুলোর বিস্তারিত তথ্যও গ্রাহকদের সঠিকভাবে দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাংকাস্যুরেন্স: বিমা বিক্রির আধুনিক পদ্ধতি
আইডিআরএ বর্তমানে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম বা ব্যাংকাসুরেন্স চালু করেছে। যাতে প্রতিটি কোম্পানির প্রিমিয়াম সংগ্রহ, দাবি নিষ্পত্তি ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করা যায়। এতে অনিয়ম কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যাংকাস্যুরেন্স বিমা বিক্রির সবচেয়ে আধুনিক প্রক্রিয়া, এই বিমা বিক্রি হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো তাদের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে জীবনবিমা ও সাধারণ বিমা– উভয় ধরনের পলিসি বিক্রি করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এই চ্যানেলে বিমা বিক্রির মূল সুবিধা হলো, বিমা পরিচালনার অর্থাৎ বিপণন ব্যয় অনেকটা কমে যাওয়া। এতে গ্রাহকের সুবিধা বাড়বে। প্রথাগত বিমা কোম্পানি যেভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে যায়; এ ক্ষেত্রে তা করতে হয় না। ব্যাংকের গ্রাহকদের বিমা সেবায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। ফলে প্রথাগত বিমা পলিসির চেয়ে এই সেবায় গ্রাহকরা বেশি সুবিধা পাবেন এবং তাতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জাতীয় আয়ে বিমার অবদান বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ব্যাংক এবং বিমা কোম্পানি যৌথভাবে ব্যাংকাস্যুরেন্স সেবা দিচ্ছে।
ভালো বিমা পণ্য নিশ্চিত করা বিমা খাতের অন্যতম দাবি। বাংলাদেশে এখনো বিমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা কম। অনেকেই মনে করেন, বিমা মানেই ঝামেলা বা অর্থের অপচয়। কিন্তু বাস্তবে একটি ভালো বিমা পণ্য জনগণের আর্থিক সুরক্ষার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হতে পারে।
বিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা পেশাদারভাবে পরিচালিত হয় এবং গ্রাহককেন্দ্রিক বিমা প্রোডাক্ট বাজারে আনা যায় তবে বিমা খাত শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তাই দেবে না, জাতীয় উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত