শিরোনাম
Passenger Voice | ০৪:৪৭ পিএম, ২০২৫-১২-২১
রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং পরিবহন খাতে আবারও অস্থিরতার অভিযোগ উঠেছে। অননুমোদিত কয়েকটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাইডশেয়ারিং কোম্পানির অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক তালা লাগানোর অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া প্রতারণার অভিযোগে অ্যাপ থেকে বাদ পড়া (ডিলিস্টেড) কিছু চালক সংঘবদ্ধ হয়ে এসব কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। এ ধরনের এক ঘটনায় গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর মিরপুরে পাঠাও লিমিটেডের একটি অফিসে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে হুমকি-ধমকি দেয় এবং জোরপূর্বক তালা লাগানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৪৩ (অবৈধ সমাবেশ), ৪৪৭ (অনধিকার প্রবেশ) ও ৫০৬ (ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ৯।
মামলায় মো. আসাদুজ্জামান (আসাদ আজিজ), কাওসার আহমেদ (কাওসার মুসল্লী), মো. আব্দুস সাত্তার লিটনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা অফিসে ঢুকে কর্মীদের গালিগালাজ করেন, মারধরের হুমকি দেন এবং কর্মীদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে অফিসের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এই সহিংসতার পেছনে কয়েকটি অনিবন্ধিত সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে—‘বাঁচাও রাইড পরিষেবা ঐক্য পরিষদ ইউনিয়ন’, ‘অ্যাপ বেইজড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়ন (এটিইউ)’, ‘রাইড শেয়ারিং ড্রাইভারস ইউনিয়ন (আরএসডিইউ)’ এবং ‘বাংলাদেশ রাইড সার্ভিস ইউনিয়ন (বিআরডিইউ)’।
অভিযোগ রয়েছে, এসব সংগঠনের কোনো আইনগত নিবন্ধন বা অনুমোদিত কাঠামো নেই। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তারা সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। অ্যাপ কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এসব গ্রুপের সদস্যদের একটি বড় অংশই যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া প্রতারণা, নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন ও অ্যাপের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা সংগঠিত হয়ে নানা দাবি আদায়ে অফিস ঘেরাও ও হামলার পথ বেছে নিচ্ছেন।
রাইডশেয়ারিং খাতে এমন অস্থিরতা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর উবার ও পাঠাওয়ের বিভিন্ন অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে রাইডশেয়ারিং কোম্পানির প্রতিনিধিদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও বিআরটিএ এসব অননুমোদিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই এসব গোষ্ঠী পুনরায় সংগঠিত হয়ে একই ধরনের সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।
টানা দুই বছর ধরে চলা এসব ঘটনা রাইডশেয়ারিং খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড খাতটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বিনিয়োগ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ যাত্রী ও রাইডারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ. কে. এম. আলমগীর জাহান বলেন, ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত