শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৩৪ পিএম, ২০২৫-১২-১৯
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে এবং পরে ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকশ বিক্ষোভকারী কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়ে চড়াও হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবনের মূল ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা ভবনের বিভিন্ন তলায় ঢুকে আসবাবপত্র, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। পরে নিচে স্তূপ করা সেসব নথিপত্র ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে তাণ্ডব চালায়।
একই সময়ে পাশের ডেইলি স্টার সেন্টারেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভকারীরা ভবনটির কাঁচ ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানেও আসবাবপত্র ও নথিপত্র বের করে এনে ভবনের সামনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় পুরো কারওয়ান বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় ভবনের ভেতরে থাকা অনেক সাংবাদিক ও কর্মচারী ছাদে বা নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নেন।
ডেইলি স্টারের আহমেদ দিপ্ত ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড দেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘এমন লেট নাইট ডিউটি যেন কারও জীবনে না আসুক। ছাদে আটকা পড়ছি, মাফ কইরা দিয়েন। ভবনে আগুন দিছে, দেখা নাও হতে পারে।’ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমানে কারওয়ান বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত