শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:২৩ পিএম, ২০২৫-১২-১৮
ভারত থেকে আমদানি ও সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ নেই। অন্যদিকে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মূলত দুই দিনে সাড়ে ৩৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিতে পাইকারি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখনো পরিপক্ব হয়নি। কৃষক কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম চাচ্ছে। এসব পেঁয়াজ পরিপক্ব হয়ে বাজারে আসতে আরও ১০ দিনের মতো সময় লাগবে। পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের চেয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। খাতুনগঞ্জে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। পুরো বাজার ভারতীয় পেঁয়াজের দখলে। সরবরাহও বেশ ভালো। তাই দামও অনেকটাই কমে এসেছে।
গত ৭ ডিসেম্বর ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০টি আইপির (আমদানি অনুমতি) বিপরীতে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। গত ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইপি দেওয়া হয়। তাতেও বাজারে পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসায় আমদানি শুরুর আট দিনের মাথায় অর্থাৎ গত ১৪ ডিসেম্বর দৈনিক আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর–এই দুই দিনে প্রতিদিন ৫৭৫টি করে মোট ১ হাজার ১৫০টি আইপি ইস্যু করা হয়। প্রতি আইপিতে আগের মতো সর্বোচ্চ ৩০ টন হিসাবে মোট ৩৪ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ দেশে আসবে। এ কারণে পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দামেও প্রভাব পড়েছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে এখন দেশি পেঁয়াজ নেই। ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। দামও অনেকটাই নিম্নমুখী। সামনে মুড়িকাটা পেঁয়াজও আসবে। তাই আশা করছি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির বাজার আর নিয়ন্ত্রণহীন হবে না। সরবরাহও বেশ ভালো থাকবে।’
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোবারক হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সরকার সর্বশেষ ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু করে। এরপর নতুন করে আর অনুমোদন দেয়নি। নতুন করে আর আইপি ইস্যু করা হবে কি না, তা আমরা এখনো জানি না। অন্যদিকে ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর আইপি পাওয়া পেঁয়াজগুলো আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশে আসবে। এরই মধ্যে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে মুড়িকাটা পেঁয়াজও বাজারে আসবে। আশা করছি, দাম সহনশীল পর্যায়ে থাকবে।’
চট্টগ্রাম মহানগরের পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ কমেনি। এখনো আমাদের ১০০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে। পণ্যটির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে এলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘সরকার আইপি অনুমোদন দেওয়ার পর পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে। কেউ যাতে সিন্ডিকেট বা কারসাজির মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে বিক্রি হয় ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়। তবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে এসে পণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। গত ১৭ অক্টোবর কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত ১ নভেম্বর কেজিতে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ৬ ডিসেম্বর প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ঠেকে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।
এর মধ্যে গত ৭ ডিসেম্বর আইপি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। ১১ ডিসেম্বর খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সরকার গত ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু করলে পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত