সরবরাহ বাড়াতে ছয় পণ্যে শুল্ক ছাড়

Passenger Voice    |    ০৩:৫১ পিএম, ২০২৫-১২-১৫


সরবরাহ বাড়াতে ছয় পণ্যে শুল্ক ছাড়

রোজা সামনে রেখে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, মটর ডাল ও খেজুরের চাহিদা বাড়ে। বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে এই ছয় নিত্যপণ্যের আমদানি এরই মধ্যে বেড়েছে। সরবরাহ আরও বাড়াতে রোজা পর্যন্ত এই ছয় পণ্যে আমদানিতে শুল্ক ছাড় বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘রোজায় পণ্যের দাম কমাতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। এলসি খোলাতেও সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে রোজা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে খেজুরের ওপর বিদ্যমান শুল্ক, বিশেষ করে আমদানি শুল্ক কিছুটা কমানো হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ছয় পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) সহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে শুল্ক ছাড় এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলায় কড়াকড়ি কমানোর দাবি জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ছয় পণ্যের মধ্যে যেগুলোতে শুল্ক ছাড় আছে, তা বহাল রাখা হবে। বাকি পণ্যের ক্ষেত্রেও দ্রুত শুল্ক ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এরই মধ্যে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। 

এনবিআর সূত্র জানায়, খেজুরের ওপর শুল্ক ৫২ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানোয় এখন শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ। 

রোজা সামনে রেখে ছয় নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে: এনবিআরের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, মটর ডাল ও খেজুরের ঋণপত্র (এলসি) খোলা বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেল আমদানি ৩৬ শতাংশ, চিনি ১১ শতাংশ, মসুর ডাল ৮৭ শতাংশ, ছোলা ২৭ শতাংশ, মটর ডাল ২৯৪ শতাংশ এবং খেজুরের আমদানি ২৩১ শতাংশ বেড়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজার মাস শুরু হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধারা নভেম্বর-ডিসেম্বরেও থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বেশির ভাগ পণ্য আগে আনা হলেও অবশিষ্ট যা বাকি রয়েছে, তা রোজা শুরু হওয়ার এক মাস আগ পর্যন্ত আসতে থাকবে। তবে সেপ্টেম্বরেই রোজার জন্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছে বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মোট ৬.২৯ বিলিয়ন ডলার ও অক্টোবরে ৫.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৫ টন সয়াবিন তেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ টন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৭২ টনের চিনি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৪৬ টন। অন্যান্য নিত্যপণ্যের আমদানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। 

চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৫০ হাজার ৩৫৫ টনের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৬ হাজার ৯১২ টন। ছোলার এলসি ৪২ হাজার ৮৯১ টন থেকে বেড়ে ৫৪ হাজার ৫১৬ টনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এ দুই মাসে ১০ হাজার ১৬৫ টন খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৬৩ টন। চলতি বছর ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১০ টন মটর আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪১ হাজার ৮১৫ টন।