শিরোনাম
Passenger Voice | ০৫:০৬ পিএম, ২০২৫-১১-২৩
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস এই সিদ্ধান্তকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বন্দর দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব এবং ২৪ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
মির্জা আব্বাস দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন কনটেইনার টার্মিনাল এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনালকে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এই তাড়াহুড়ো চুক্তি গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শের পরিপন্থী, কারণ জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস সম্প্রতি একটি টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “বন্দরে বিদেশি হস্তক্ষেপ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।” তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রামের লালদিয়া চরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ৩৩ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আরও ১৫ বছর বাড়ানো যাবে। একই দিনে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএর সঙ্গে পানগাঁও নৌ টার্মিনালের ২২ বছরের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তিগুলো অস্বচ্ছ এবং গোপনে করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া মানে জাতীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো। আফ্রিকার জিবুতির মতো দেশে অনুরূপ চুক্তির কারণে বিপুল ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।” মির্জা আব্বাস বলেন, এই পদক্ষেপ সংবিধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের পরিপন্থী, কারণ জনগণের সম্মতি ছাড়া বিদেশি চুক্তি করা যাবে না। তিনি এটিকে ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ বলে অভিহিত করেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে সরিয়ে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার চেষ্টা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2025 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত