শিরোনাম
Passenger Voice | ০১:১৪ পিএম, ২০২৫-১১-১৩
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অবরোধের কারণে পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এই মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে উভয় পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ধীরে ধীরে তারা সড়ক থেকে গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরানো শুরু করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কও স্বাভাবিক রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই পথে আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল ৭টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে সাড়ে ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত অবরোধ ছিল। পরে এই মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে সকাল সাড়ে ৯টা ও ১০টায় দুই দফা কয়েক মিনিটের জন্য অবরোধ তুলে নিলেও আবার অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ ও র্যাবের চেষ্টায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরোপুরি অবরোধ তুলে নেয় অবরোধকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, এ অবরোধের নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সালথা উপজেলার বাসিন্দা দেবাশীষ নয়ন ও ফরিদপুর শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর শহরের বাসিন্দা আসিবুর রহমান ফারহান।
ফারদপুর বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফরিদপুর থেকে স্থানীয় রুট ও দূর পাল্লার সকল বাস বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।
গোল্ডেন লাইন বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ফরিদপুর থেকে আমাদের সব বাস সব রুটে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
ফরিদপুর বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আমরা বাস চালাতে চাই। তবে যাত্রী না পেলে তো বাস চালানো সম্ভব নয়। খালি বাস নিয়ে তো আর পথে নামা যায় না। বিকেলে পরিস্থিতি বুঝে আমরা রাস্তায় বাস নামাব। বাসে একটা ক্ষয়ক্ষতি হলে তো আমাদের স্থায়ী ক্ষতি। এটা পোষাবো কীভাবে? এজন্য বাস বন্ধ রেখেছি।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সড়ক থেকে গাছ ও আগুনের অবশিষ্টাংশ সরানো হয়েছে। ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল দুই মহাসড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত