শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৬ এএম, ২০২৫-১১-০৬
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার মেট্রোরেল-৬-এর নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। অনেক আগে জানানো হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি। এই কাজ শেষ হতে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।
প্রস্তাবটি যাচাই করতে গত মঙ্গলবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কিছু ব্যাপারে আপত্তি ওঠে। সেসব সংশোধন করে রিভাইজড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল (আরডিপিপি) বা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে শিগগিরই একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎ-চালিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফাস্ট ট্র্যাক নামে উত্তরার উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রথমে ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের অনুমোদন দেয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। এই প্রকল্পের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ছিল ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা। আর সরকারি কোষাগার থেকে খরচ ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। প্রথমে বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ১২ বছর, অর্থাৎ ২০১২-এর জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের অনুমোদনের পর ২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি লাইন-৬-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরু হলেও প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সময় বাড়ানো হয় এক বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে মতিঝিল পর্যন্ত লাইন টানার জন্য দ্বিতীয় সংশোধনী আনা হয়। তখন খরচও বাড়ানো হয়। এক লাফে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এই টাকার মধ্যে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। ফলে সরকারি খরচ ধরা হয় দ্বিগুণের বেশি, ১৩ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ শেষ হলে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমে আগারগাঁও পর্যন্ত যাতায়াত শুরু হয়। বছরখানেক পর কাজ শেষ হলে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত শুরু করেন যাত্রীরা। মেট্রোরেল-৬-এ মোট ১৭টি স্টেশন রয়েছে। উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর। এসব রুটে যাত্রীরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাতায়াত করছেন। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার যাতায়াতের জন্য আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ সময় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হলে গত মঙ্গলবার যাচাই করতে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আর্থিক দিক পর্যালোচনা করে ৭৫৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থ কমছে ১ হাজার ২৩১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তবে ডলার রেটের কারণে বিদেশি ঋণের খরচ ৪৭৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক বলেন, ‘তাড়াহুড়া করে মেট্রোরেল চালু করায় এর কুফল পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়নি। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ পর্যন্ত মারা গেছে। তাই মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলমান কাজ ভালো করতে গিয়ে যদি দেরি করে তাতে সমস্যা নেই। হয়তো জনগণ কিছুদিন সুফল পাবেন না। কিন্তু গুনগত মান নিশ্চিত হবে। ভ্রমণ নিরাপদ হবে। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আগে প্রকল্প পরিচালকসহ মেট্রোরেল-৬-এর সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা খুবই অদক্ষ ও অপরিপক্ব ছিলেন। তারা কাজের গুণগত মান দেখেননি। নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে। মানুষ মারা যাচ্ছে।’
তিন বছর সময় বাড়ানোর ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওহাব বলেন, ‘বছরখানেক আগে সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশে সমস্যা হওয়ায় কাজে বিঘ্ন ঘটে। এ জন্য সময় বাড়ানো হচ্ছে। গত মাস পর্যন্ত মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড (ডিএনপি) চুক্তি হয়েছে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত ধরা হয়েছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তারা ঠিক করে দেবে। কিন্তু মেকানিক্যাল (যান্ত্রিক) কাজ, ট্র্যাকের কাজসহ অন্যান্য কাজ শেষ হবে ২০২৬ সালে। এরপর ট্রায়াল রান চলবে। ট্রায়াল রান সফল হলে আমরা অপারেশনে যাব। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রেন চালু করব। এরপর ওই সময়ের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে তারা ঠিক করে দেবে।’
প্যা.ভ.ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত