শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:০৫ পিএম, ২০২৫-১১-০৫
দেশে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ৫৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে পেট্রোবাংলার। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে প্রায় ২৯ শতাংশ কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয়চুক্তির চেয়ে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বরাবরই বেশি। ফলে বিগত সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে প্রাধান্য দেয়া হলে সাশ্রয়ী মূল্যে আরো বেশি এলএনজি কেনার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাতে একদিকে যেমন স্পট মার্কেট থেকে কার্গো আমদানি কম হতো, অন্যদিকে এলএনজি কিনতে পেট্রোবাংলার বিপুল পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় করা যেত।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যমান ও নতুন চুক্তির আওতায় দেশে এলএনজি কার্গো আসবে ৭১টি। অন্যদিকে স্পট মার্কেট থেকে মোট ৩৩টি কার্গো কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দামের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পড়ছে ৯ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে। সেখানে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৪ ডলার। যদিও স্পট মার্কেট থেকে এমএস আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পেট্রোবাংলার সর্বশেষ কেনা কার্গোটির প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়েছে ১১ ডলার ৮৮ সেন্ট করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলএনজি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল জ্বালানি। ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকার এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্য ও দীর্ঘ সময়ের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব দিলে আরো বেশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুযোগ গ্রহণ করা সম্ভব হতো। এতে স্পট মার্কেট এড়িয়ে কম মূল্যে এলএনজি কেনা যেত। বর্তমানে পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির প্রাক্কলনে স্পট থেকে অনেকগুলো কার্গো কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। এ এলএনজির বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে পাওয়া গেলে বিপুল অর্থ সাশ্রয় হতো।
গত দুই দশকে স্থানীয় গ্যাসের জন্য বড় অনুসন্ধান চালানো হয়নি বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে হয়নি পর্যাপ্ত বিনিয়োগও। বিশেষ করে বাজেটে বিগত দেড় দশকে বিদ্যুতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সে তুলনায় বরাদ্দ ছিল যৎসামান্য। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কূপ খনন ও জরিপে বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ১ কোটি টাকার কিছু বেশি। সীমিত এ অর্থ দিয়ে বিশাল অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো দুরূহ কাজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কার্গো পর্যায়ক্রমে বাড়লে স্পট থেকে কার্গো আমদানি কমে যাবে। এলএনজি ট্রেডিংয়ে ক্যালেন্ডার বর্ষ হিসাব ধরা হয়। সেই হিসাবে আগামী বছর মাত্র ১৭টি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা কার্গোর চেয়ে সংখ্যায় অনেক কম। এছাড়া স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনার সুযোগ রাখার বিষয়টি মূলত দাম ও সরবরাহ বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে। এতে উচ্চমূল্য হলে কার্গো কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দেয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দেশীয় গণমাধ্যম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চাহিদার সব এলএনজি কার্গো নেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধাও রয়েছে। অন্তত ১০-২০ শতাংশ এলএনজি কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনার সুযোগ রাখা উচিত। কেননা খারাপ আবহাওয়ায় কার্গো আমদানি জটিলতা, কিংবা টার্মিনালে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটিজনিত কিছু অসুবিধা রয়েছে। এক্ষেত্রে স্পট মার্কেট অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমাধান। এছাড়া দাম কমের সুযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে স্পট মার্কেট অপশনটি রাখা হয়েছে। অর্থবছরে হয়তো এলএনজি কার্গো বেশি দেখাচ্ছে, কিন্তু পঞ্জিকাবর্ষ হিসাব করলে দেখা যাবে আগামী বছর (২০২৬ সালে) স্পট থেকে মাত্র ১৭টি কার্গো কেনা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সরবরাহ কার্গোর চেয়ে অনেক কম।’
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয় ল্যান্ডবেজড বা ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের অভাবকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ভাসমান টার্মিনালে বেশি মনোযোগী হওয়ায় ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণ করা যায়নি। এতে পেট্রোবাংলার সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যেমন বিভিন্ন সময় ঝুঁকি তৈরি করেছে, তেমনি রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ, টার্মিনাল বন্ধসহ আনুষঙ্গিক অনেক ব্যয় বহন করতে হয়েছে। এতে এলএনজির পেছনে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামিট ও এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। এই আট বছরে দুটি টার্মিনালের পেছনে রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ বাবদ বার্ষিক গড়ে ২ হাজার কোটি টাকা ধরলেও অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এলএনজি আমদানির শুরুর বছরে ল্যান্ডবেজড টার্মিনালটি নির্মাণ করা হলে তা এ রিগ্যাসিফিকেশন ব্যয়ের ৭০ শতাংশ অর্থ দিয়েই সম্ভব ছিল বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পেট্রোবাংলার সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুযোগ নিতে তিন বছর আগে কাতার ও ওমান থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি তৎকালীন সরকার। দফায় দফায় চিঠি দিয়ে তারা সাশ্রয়ী মূল্যের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সে সময় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম কম থাকায় সে প্রস্তাব উপেক্ষা করা হয়েছিল। তখন সুযোগ লুফে নেয়া গেলে অনেক কম মূল্যে বড় চুক্তি করতে পারত জ্বালানি বিভাগ।’
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগ নেয়। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার এ টার্মিনাল নির্মাণে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। এতে পাঁচটি কোম্পানির সংক্ষিপ্ত তালিকাও করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানিতে কমিশন বাণিজ্য ও তৎকালীন সরকারের অনেক মন্ত্রী-আমলার তৎপরতায় টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি আর এগোয়নি।
ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে একদিকে যেমন গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব রাখত, অন্যদিকে ভাসমান টার্মিনালের সরবরাহ ব্যবস্থাপনার জটিলতা এড়িয়ে বড় মজুদ সক্ষমতাও গড়ে তোলা যেত। এতে বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলএনজি সরবরাহের সংকট জটিলতা হ্রাস পেত।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগটি পুনরায় উজ্জীবিত করা হয়। নতুন করে এ টার্মিনাল কোনো একক কোম্পানিকে না দিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে এগিয়ে নেয়া হবে। এরই মধ্যে টার্মিনাল নির্মাণে জ্বালানি বিভাগের কাছে অন্তত ছয়টি কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে।
ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সচিব বলেন, ‘ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে অগ্রগতি সন্তোষজনক। বর্তমান সরকার এ টার্মিনাল নির্মাণে উদ্যোগ নেয়ার পর বেশ কয়েকটি কোম্পানি জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকার পিপিপি মডেলে এ টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে যেসব কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের শর্ট লিস্ট করা হয়েছে। একজন প্রজেক্ট ডিরেক্টরও (পিডি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত এ বিষয়ে আরো বড় পরিসরে কাজ শুরু হবে।’
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলএনজির ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দেশের গ্যাস সরবরাহ বিবেচনার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এটি নির্মাণে আরো আগেই উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। বর্তমানে টার্মিনাল নির্মাণসংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পেছনে এক বছর সময় ব্যয় হয়েছে। চুক্তি করতে আরো এক বছর লেগে যাবে। আর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়ে অপারেশনে আসতে সাত-আট বছর সময় প্রয়োজন। এছাড়া এখানে অন্তত ১৫-২০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় জড়িত। এ বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সরকার একা করবে নাকি বিদেশী বিনিয়োগে অথবা যৌথ উদ্যোগে করা হবে তা নিয়ে ছিল সিদ্ধান্তহীনতা। এগুলোকে ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল নির্মাণে বিলম্ব হওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করেন তারা।
বৈশ্বিকভাবে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা যায়, স্থায়ী ভূমিভিত্তিক একটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ১০০ কেটি ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে ব্যয়ের বিষয়টি নির্ভর করে টার্মিনাল নির্মাণের ভৌগোলিক অবস্থান, সক্ষমতা, প্রকল্প জটিলতা ও সময়ের ওপর।
বাংলাদেশে অনশোরে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে একটি ভাসমান টার্মিনালের ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫০ কোটি ডলার। যদিও জার্মানির স্টেডে ল্যান্ডবেজড একটি টার্মিনাল নির্মাণে ২০১৮ সালে ব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ধামরা পোর্টে ২০১৭ সালে নির্মিত ল্যান্ডবেজড টার্মিনালটির ব্যয় ছিল ৯৫ কোটি ডলার।
দেশে প্রতি বছর স্থানীয় গ্যাসের উত্তোলন ব্যাপক হারে কমছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় গ্যাসের অনুসন্ধানে বড় বিনিয়োগ না হওয়া, অন্যদিকে এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করার ফলে গ্যাস খাতে বড় ধরনের জোগান সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজির বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি। সামনের দিনগুলোতে স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ কমতে থাকলে পরিস্থিতির আরো অবনমন হবে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের অনুসন্ধানে জোরালো চেষ্টা না করে আমদানি বাড়ালে তাতে ঝুঁকিও বাড়বে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে ৪০ কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা, ওমান থেকে ১৬ কার্গোতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে একই কোম্পানি থেকে ১১ কার্গো কিনতে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি নতুন চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জির কাছ থেকে ছয় কার্গোতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৩০ কোটি, ওকিউ ট্রেডিং থেকে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় হবে ৮২২ কোটি এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে সাত কার্গো এলএনজি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। স্পট মার্কেট থেকে ৩৩ কার্গো কিনতে ব্যয় হবে ১৮ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আমদানি করে চাহিদা মেটানো কোনো সমাধান নয়। বরং এতে দীর্ঘমেয়াদি বিপদ রয়েছে। এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি করা হলে এটাকে আমি বলব বিগত সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। কূপ খনন করে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের বড় মজুদ মিলছে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে বাংলাদেশের ভূগঠন বদ্বীপ (ডেল্টা)। নাইজেরিয়া-ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের মতো একই ভূগঠন। তারা যদি বিপুল পরিমাণ গ্যাস পায়, আমরা কেন পাচ্ছি না। কূপ খনন করা হচ্ছে বলে বারবার বলা হচ্ছে। আসলে কতটা কূপ খনন করা হচ্ছে সেটি দেখতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম কূপ খনন হয়েছে বিগত সময়ে। এখনো যে খুব বেশি হচ্ছে এমনটি মনে করি না। প্রকৃতপক্ষে গ্যাসের জোগানে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো স্থানীয় উত্তোলন বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেয়া। অনাবিষ্কৃত অঞ্চলে বিস্তৃত অনুসন্ধান-ড্রিলিং করা।’
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে স্থানীয় গ্যাসকূপ খননে আটটি রিগ কাজ করছে। আরো দুটি রিগ কেনা হচ্ছে। এছাড়া ৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন আরো ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত