শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:০৩ এএম, ২০২৫-১০-১২
ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জুলাই যোদ্ধাকে হেনস্তার ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়া সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না ইউনাইটেডসহ সৌখিন পরিবহনের অন্তত ৩০০ গাড়ি। এতে অফিসগামী যাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্যেশে যাত্রা করা যাত্রীরা বাস টার্মিনালে এসে পড়েন চরম বিপাকে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নির্দেশে রোববার সকাল থেকে আবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে চলা বিভাগের ময়মনসিংহসহ নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ছাড়াও কিশোরগঞ্জের সব দূরপাল্লার বাসচলাচল বন্ধ রয়েছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
গন্তব্যের উদ্দেশে যেতে না পারায় বিপাকে পড়া যাত্রীরা বলেন, আলোচানার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক। পরে সকাল ৮টার পর শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দাবিতে অনশন ধর্মঘটের ডাক দেয় কিছু বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিকরা, সব সমস্যার সমাধান করে রাজনীতিমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থারও দাবি জানান তারা।
ঢাকাগামী যাত্রী আবু তাদের বলেন, গতকাল থেকে ঢাকা যাওয়ার চেষ্টা করছি কিন্তু আন্দোলনের কারণে যেতে পারছি না। হুটহাট করে এমন বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, অন্তত বাসস্ট্যান্ড রাজনীতি মক্ত থাকুক।
ইউনাইটেড পরিবহনের চালকের সহকারী সোহেল রানা বলেন, বাস বন্ধ থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। কিন্তু এবার বাস বন্ধের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। একটি ঘটনা ঘটায় শ্রমিক অরিণ জেলে রয়েছে। তারপরে ১৬টি বাস বন্ধের পাশাপাশি জব্দ করতে হবে এমন দাবি মানার মতো নয়। কারণ এসব বাসের সঙ্গে শ্রমিকের রিজিক জড়িত।
হেনেস্তার শিকার আবু রায়হান বলেন, প্রশাসন এবং শ্রমিক নেতারা আমাদের দাবি মেনে নেওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গতকাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। আমরা চাই মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে ফ্যাসিস্টের কোনো স্মৃতি চিহ্ন থাকুক। তবে দাবি মেনে নেওয়ার পর শুনেছি মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড থেকে ইউনাইটেড এবং সৌখিন পরিবহনের কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। যাত্রী দুর্ভোগ হলে আবারও আন্দোলনে নামবো।
ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, এনসিপির কয়েকজনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ বিষয়টি বড় করছে। তারা অনৈতিক সুবিধা নিতে প্রায়ই এমন ঝামেলা সৃষ্টি করে। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আমিনুল হক শামীম পরিচালিত ১৬ বাস বন্ধের পাশাপাশি একটি মনিটরিং টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় বাস চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ঢাকার নেতৃবৃন্দ তা মানতে নারাজ, যার কারণে ইউনাইটেড এবং সৌখিন পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। আজ সকাল থেকে বিভাগের চার জেলাসহ ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাদের দাবি নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ শ্রমিক অরুণের মুক্তি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত