শিরোনাম
Passenger Voice | ০৭:২৭ পিএম, ২০২৫-১০-০৯
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার পরিবহনে সারচার্জ বা বাড়তি মাশুল আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সিএমএ-সিজিএম। ২৬ অক্টোবর থেকে এই ‘সারচার্জ’ কার্যকর করা হবে বলে নোটিশে জানিয়েছে কোম্পানিটি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মাশুল বাড়ানোর কারণে স্থানীয়ভাবে পরিচালন খরচ বেড়েছে। বাড়তি এই পরিচালন খরচ মোকাবিলা করতে তাই সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমএ-সিজিএম।
এই সারচার্জ বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে প্রদান করতে হবে বলে জানানো হয়। ‘ইমার্জেন্সি কস্ট রিকভারি ( ইসিআরএস) সারচার্জ’ বা জরুরি খরচ পুনরুদ্ধার নামে এই সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে। চুক্তি বা চালানের শর্তাদি নির্বিশেষে, চট্টগ্রাম বন্দরে (বিডিসিজিপি) হ্যান্ডেল করা সমস্ত চালানের ক্ষেত্রে ইসিআরএস প্রযোজ্য হবে। কোম্পানিটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন করে সারচার্জ আরোপের ফলে আমদানি-রপ্তানিকারকদের ফ্রান্সের কোম্পানিটির কাছ থেকে কনটেইনার সেবা নিতে হলে প্রতিটি কনটেইনারভেদে ৪৫ থেকে ৩০৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তি মাশুল দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫ হাজার ৫২০ থেকে ৩৭ হাজার ৪১৪ টাকা। যেমন প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারে এই মাশুল বাবদ দিতে হবে ৫ হাজার ৫২০ টাকা। কনটেইনারের আকার যত বাড়বে, সারচার্জও তত বাড়বে। কোম্পানিটির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই মাশুল আদায় করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন হারের লক্ষ্য চট্টগ্রামের শুল্ক কলম্বো এবং সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি নিয়ে আসা। বন্দর ব্যবহারকারী এবং রপ্তানিকারকরা সতর্ক করেছেন যে, ফি বৃদ্ধি বাংলাদেশের বাণিজ্য নেটওয়ার্ক জুড়ে লজিস্টিক খরচ বাড়াতে পারে, ইতিমধ্যেই ডলার এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যা চাপের মধ্যে রয়েছে। ফ্রেট ফরোয়ার্ডরা বলেছেন যে, ক্যারিয়ারগুলো সম্ভবত ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করবে।বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘যখন বন্দর ফি বাড়ে, তখন ক্যারিয়ারগুলো মার্জিন রক্ষার জন্য তাদের চার্জ সমন্বয় করে। শেষ পর্যন্ত, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং ভোক্তারা এর প্রভাব বহন করে।’
শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন যে, সিএমএ-সিজিএম সারচার্জ -এর জেরে অন্যান্য বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো যেমন Maersk, MSC, এবং Hapag-Loyd অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে, যা বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে কন্টেইনার সম্বলিত বাণিজ্য ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) সহ বাণিজ্য সংস্থাগুলো শুল্ক বৃদ্ধির সময় পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, বৈশ্বিক চাহিদার ধীরগতির মধ্যে অতিরিক্ত সারচার্জ রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে দুর্বল করতে পারে।চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেছেন, আমরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছি যে হঠাৎ করে ৪১% বন্দর চার্জ বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে ৮.৫%-এ রয়েছে এবং এই পদক্ষেপ বিষয়টিকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে'।রপ্তানিকারকরা ইতিমধ্যেই সংকুচিত অর্ডার এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে লড়াই করছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত সারচার্জগুলো বাংলাদেশের ব্যস্ততম বন্দরের মাধ্যমে লাভের মার্জিন আরও হ্রাস এবং বাণিজ্য সরবরাহকে জটিল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত