শিরোনাম
প্রিন্টিংয়ের জন্য নতুন ঠিকাদারের অপেক্ষা
Passenger Voice | ০২:২৭ পিএম, ২০২৫-০৯-২৫
দেশে দুই মাস ধরে বন্ধ ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম। জরুরি ভিত্তিতে কিছু প্রিন্ট হলেও এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রিন্টিংয়ের জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই নতুন ঠিকাদার খুঁজছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে ঝুলে আছে ৭ লাখ ২৪ হাজারের বেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স। প্রিন্টিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বিদেশগামী কর্মীরা।
বিআরটিএর হয়ে এতদিন গ্রাহকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে দিত ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেড (এমএসপি)। গত ২৮ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিআরটিএর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে কয়েক মাস লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা। আর নতুন ঠিকাদার না আসা পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্সের সংকট দূর হবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের এ সংকটের জন্য বিআরটিএর কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, পুরনো ঠিকাদারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত ছিল। পুরনো ঠিকাদার যেদিন চলে যাবে, সেদিন থেকেই দায়িত্ব নেবে নতুন ঠিকাদার—প্রক্রিয়াটি এমন হওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু বিআরটিএ ব্যর্থ হওয়ায় লাখ লাখ গ্রাহক হয়রানির মধ্যে পড়েছেন।
কাজের জন্য আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে ঢাকার আদাবরের বাসিন্দা আকবর হোসেনের। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সটিও আটকে আছে। সময়মতো প্রিন্টিং করা লাইসেন্স না পেলে বিদেশে কাজের সে সুযোগ হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের চলমান সংকট প্রসঙ্গে বিআরটিএর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুরুতে পরিকল্পনা ছিল একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানিকে কার্ড প্রিন্টিংয়ের জন্য নিযুক্ত করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে না গিয়ে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে নিযুক্ত করার কথা ছিল। তবে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে এ পরিকল্পনা বাতিল করে দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
জাল, অবৈধ ও ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠেকাতে ২০১১ সাল থেকে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করে বিআরটিএ। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বিভিন্ন সময় বিআরটিএর হয়ে এ কার্ড প্রিন্ট করে দিয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিংকাজের ঠিকাদার ছিল ভারতের মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ৪০ লাখ কার্ড প্রিন্ট করে দেবে। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যদিও চুক্তির মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি ৩৩ লাখ কার্ড প্রিন্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, তাতে দরপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ অক্টোবর। এরপর দরপত্র যাচাই-বাছাই এবং মূল্যায়ন করা হবে। সব কাজ শেষ করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা।
বর্তমানে সোয়া সাত লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেন্ডিং অবস্থায় আছে। প্রতি মাসে নতুন করে আবেদন পড়ে প্রায় ৬০ হাজারে মতো। ফলে নিয়মিত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম কয়েক মাস বন্ধ থাকলে পেন্ডিং লাইসেন্সের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এমনকি নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পরও পেন্ডিং লাইসেন্সের পরিমাণ সহসাই কমবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিআরটিএর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের সেলফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এর আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৫টি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং করা হয়েছে। বর্তমানে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৫৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স পেন্ডিং রয়েছে। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলমান থাকায় জরুরি ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিতভাবে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে।’ সূত্র বণিক বার্তা
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত