শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:১৫ পিএম, ২০২৫-০৯-২৪
চট্টগ্রাম নগরে চলাচল করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন হয়ে থাকে ‘চট্ট-মেট্রো’ সিরিয়ালে, যা সেগুলোর নম্বর প্লেটে লেখা থাকে। এই অটোরিকশাগুলো চাইলে নগরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলাতেও যেতে পারে। অন্যদিকে উপজেলায় চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন হয় ‘চট্টগ্রাম’ সিরিয়ালে। কিন্তু এই যানগুলো কোনোভাবেই নগরে ঢুকতে পারে না।
সেগুলোকে শহরে ঢোকার প্রবেশ মুখে আটকে দেওয়া হয়। নগরে প্রবেশের একাধিক রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও অক্সিজেনের নোয়াপাড়া হয়ে আসা যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কারণ ‘চট্টগ্রাম’ সিরিয়ালের অটোরিকশা তাদের যেখানে নামিয়ে দেয় সেখান থেকে ‘চট্ট-মেট্রোর’ অটোরিকশায় উঠতে অন্তত এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়।
অটোরিকশাচালক-মালিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যাত্রীদের দাবি, কাপ্তাই রোডের গোলাপের দোকান থেকে গণপরিবহন চালুর রুট পারমিট দেওয়া হোক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। এই পথে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ কমবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বাসিন্দারা ‘চট্টগ্রাম’ সিরিয়ালের সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে শহরে আসেন। তাদের নেমে যেতে হয় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের গোলাপের দোকান এলাকায়। এরপর প্রায় ১ কিলোমিটার পথ হেঁটে কালুঘাটের (শহরের) কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে ‘চট্ট-মেট্রো’ সিরিয়ালের অটোরিকশায় উঠতে হয়। তারা চাইলেও ‘চট্টগ্রাম’ সিরিয়ালের অটোরিকশায় সরাসরি শহরের ভেতরের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না।
অন্যদিকে জেলার হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান থেকে নগরে আসতে হলে ‘চট্টগ্রাম’ সিরিয়ালের অটোরিকশায় আসা যাত্রীদের বিআরটিএ নোয়াপাড়া এলাকায় নেমে যেতে হয়। সেখান থেকে একটি গণপরিবহন পাওয়া যায়, যা মুরাদপুর হয়ে কোতোয়ালি পর্যন্ত যায়। কিন্তু যারা বাসে উঠতে চান না তাদের অন্তত এক কিলোমিটার পথ হেঁটে অক্সিজেন মোড়ে আসতে হয়। সেখানে মেলে ‘চট্ট-মেট্রো’ সিরিয়ালের অটোরিকশা।
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা পেপার মিল এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে এসেছেন সিএনসিচালিত অটোরিকশার চালক নুর উদ্দিন। তিনি যাত্রীদের গোলাপের দোকান এলাকায় নামিয়ে দেন। পরে যাত্রীদের হেঁটে কাপ্তাই রাস্তার মাথার দিকে যেতে দেখা যায়। নুর উদ্দিন বলেন, ‘গ্রাম থেকে যাত্রীদের নিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এসেছি। সে হিসাবে বলতে গেলে গোলাপের দোকান থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথার দূরত্ব খুবই কম। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ আমাদের এই সামান্য দূরত্বে যেতে দিল না। যদি যেতে চাইতাম- পুলিশ গাড়ি জব্দ করে ডাম্পিংয়ের পাঠিয়ে দেবে। তখন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে গাড়ি আনতে হতো।’
অক্সিজেন মোড়ে যাওয়ার উদ্দেশে নতুন রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন হামিদ উল্লাহ। কথা হয় তার সঙ্গে। বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া থেকে বাসে এসে নতুন রাস্তার মাথায় নেমেছি। এখানে দেখলাম কোনো গাড়ি অক্সিজেনের দিকে যাচ্ছে না। আগে জানলে এখানে নামতাম না।’
কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা গৃহিণী নুর নাহার বেগম জানান, রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান এলাকায় যাবেন। প্রথমে রিকশায় করে পৌঁছাবেন গোলাপের দোকান এলাকায়। সেখান থেকে গ্রামের সিএনজি (চট্টগ্রাম সিরিয়াল) নিয়ে বাড়িতে যাবেন।
চট্টগ্রাম সিএনজি-অটোরিকশা-অটোটেম্পু ও ফোরস্টোক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, ‘গোলাপের দোকান থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত অটোটেম্পু ও ফোরস্টোক চালুর হওয়া উচিত। আমরা রোড পারমিট অথরিটির সভায় বিষয়টি তুলব। এখানে রুট চালু না থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অক্সিজেন হাটহাজারী সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩নং গাড়ি থাকায় দুর্ভোগ কম।’
চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘কাপ্তাই ও বোয়ালখালীর রুটের গ্রামের গাড়িগুলোর (চট্টগ্রাম সিরিয়াল) গ্যাস নিতে শহরে ঢুকতে হয়। সেখানে পুলিশ গাড়ি জব্দ করে। আমরা বিষয়টি মেট্রোপলিটন পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। আমার গ্যাস নেওয়ার সুযোগ চাই।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর ট্রাফিক) নেছার আহমদ বলেন, ‘কাপ্তাই রাস্তার মাথায় এক সময় প্রচুর চাঁদাবাজি হতো। গ্রামের গাড়ি (চট্টগ্রাম সিরিয়ালের সিএনজিচালিত অটোরিকশা) থেকে চাঁদা তোলা হতো। আমরা সেগুলো বন্ধ করেছি। এখন ওখানে যানজট কম হয়। কিন্তু গোলাপের দোকান এলাকায় গ্রাম গাড়ির যাত্রীদের নেমে যেতে হয়। সেখান থেকে যাত্রীদের কষ্ট করে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় আসতে হয়। বর্তমানে ভোগান্তির চেয়ে সেখানে মানুষের উপকার বেশি হচ্ছে। গ্রামের গাড়িগুলোর মহানগরে চলতে রুট পারমিট নেই। সুতরাং সেগুলো এখানে চলতে পারবে না।’ সুত্র খবরের কাগজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত