শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:১৩ পিএম, ২০২৫-০৯-২৩
যানজটের নগরী রাজধানী ঢাকা। এখানে গাড়িতে চলতে গিয়ে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ যানজট কোথাও কোথাও চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এমন ভোগান্তির অবসান ঘটাতে প্রায়ই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। তারপরও চেষ্টা থেমে নেই।
যানজট কমিয়ে গাড়ির চাকা সব সময় সচল রাখতে সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি মোড় বা ইন্টারসেকশনে পরিবর্তন এনেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। মোড়গুলোর আগে বা পরে চালু করা হয়েছে ইউটার্ন। ফলে যেসব তিন-চার রাস্তার মোড়ে আগে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো, সেখানে এখন গাড়ির চাকায় গতি ফিরেছে। কমে আসছে যানজট। ফলে চলাচলে কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখছেন নগরবাসী।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্র বলছে, ২০০৬ সালে ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় পাঁচ কিলোমিটারে। তবে এখন মোড়গুলোতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে চলতি বছর সেই গতি বেড়ে ১০ কিলোমিটার হয়েছে।
নতুন এ পদ্ধতিতে চতুর্মুখী মোড়গুলোর দু-একটি সড়কের মুখ বন্ধ করে সুবিধাপূর্ণ স্থানে ইউটার্ন করা হয়েছে। এতে সিগন্যালে কমেছে গাড়ির জটলা। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চালু হয়েছে ডিজিটাল ট্রাফিক লাইট প্রকল্প। যার মাধ্যমে উন্নত বিশ্বের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে যান চলাচল। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গ করলে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ধারণ ও ডিজিটাল মামলার ব্যবস্থা।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র বলছে, ২০০৬ সালে ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়ায় পাঁচ কিলোমিটারে। তবে এখন মোড়গুলোতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে চলতি বছর সেই গতি বেড়ে ১০ কিলোমিটার হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর যানজটও অনেকটা কমে এসেছে বলে দাবি ট্রাফিক বিভাগের।
রাজধানীর বিভিন্ন মোড় বা ইন্টারসেকশন ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ ভবনসংলগ্ন আড়ং সিগন্যালে বদল আনা হয়েছে। গাবতলী থেকে নিউমার্কেটগামী যানবাহন সংসদ ভবনের সামনে ইউটার্ন নিয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে। এতে ধানমন্ডি থেকে গাবতলীগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে। আর ফার্মগেট থেকে গাবতলী বা নিউমার্কেট থেকে ফার্মগেটগামী যানবাহনগুলোকে একটি সিগন্যালের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে আড়ংয়ের মোড়ে আর আগের মতো দীর্ঘ যানজট নেই।
আড়ং সিগন্যাল থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের সিগন্যাল। সেখানেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আগে আড়ংয়ের দিক থেকে আসা শংকরগামী যানবাহনকে ধানমন্ডি ২৭ সিগন্যাল অতিক্রম করে যেতে হতো। এতে ধানমন্ডি থেকে গাবতলী বা ফার্মগেটগামী গাড়িগুলো সেই মোড়ে অতিরিক্ত সময় আটকে থাকতো। বর্তমানে পথটি বন্ধ করে সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ইউটার্ন দেওয়া হয়েছে। ফলে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না এবং বন্ধ হয়েছে জট।
এছাড়া রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুটি এবং শাহবাগে একটি রাস্তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ দুই জায়গায় নতুন করে চালু করা হয়েছে দুটি ইউটার্ন। শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের সামনের সিগন্যালটি বন্ধ করে ঢাকা ক্লাবের সামনে ইউটার্ন দেওয়া হয়েছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঁটাবনমুখী যানবাহনগুলোকে ঢাকা ক্লাবের ইউটার্ন থেকে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
নিউমার্কেট থানা মোড় থেকে নিউমার্কেটগামী গাড়িগুলো এখন ইডেন কলেজের সামনের ইউটার্ন থেকে ঘুরে আসতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নীলক্ষেত মোড়ে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালেও একটি সড়ক বন্ধ করে ফার্মগেটসংলগ্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ইউটার্ন।
এ ব্যবস্থার ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কমেছে যানজট। সাভার থেকে নিউমার্কেটগামী মৌমিতা পরিবহনের বাসচালকের সহকারী সবুজ হোসেন বলেন, ‘আগে আড়ংয়ের মোড়ে সিগন্যালের কারণে দুদিকের রাস্তায় জ্যাম লেগে যেতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হতো। এখন আর সিগন্যালে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। সংসদের সামনে ইউটার্ন করে চলন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে।’
মোটরসাইকেলচালক মহিদুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার এ পরিবর্তনে আগের তুলনায় যানজট অনেকটাই কমেছে। আগে তো কখন সিগন্যাল ছাড়বে সেটির কোনো ভরসা ছিল না। এখন জ্যাম হলেও পুরোটা সময় থেমে থাকা লাগে না, ধীরে ধীরে গাড়ি নিয়ে আগানো যায়। ট্রাফিকের এ পরিবর্তনে জনগণের খানিকটা উপকার হয়েছে। তবে আরও এমন কিছু বাস্তবায়ন করা উচিত, যার ফলে অন্যান্য দেশের মতো আর যানজট থাকবে না।’
রাজধানীর ৭০ মোড়ে পরিবর্তন, গতি ফিরছে সড়কেমোড় বা ইন্টারসেকশনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাস্তার মুখ। রাজধানীর বিজয় সরণি সিগন্যালে/ছবি: জাগো নিউজ
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারিতে ট্রাফিক বিভাগে যোগ দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি রাজধানীর যানজট কমাতে এবং চলার গতি বাড়াতে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেন। তিনি ভিডিও ধারণ এবং ডিজিটাল মামলা বৃদ্ধির পাশাপাশি ৭০টি মোড় বা ইন্টারসেকশন নতুন করে বিন্যাস করেন।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সরওয়ার বলেন, ‘রাজধানীর ৭০টি ইন্টারসেকশন মোডিফাই (পরিবর্তন) করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের নতুন কিছু উদ্যোগের ফলে যানজট কমাতে যেমন সুফল মিলছে, তেমনি গাড়ির গতিও বেড়েছে। ২০০৫-০৬ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। সেটা কমতে কমতে ২০২৪ সালে এসে দাঁড়ায় পাঁচ কিলোমিটারে। আমাদের নতুন কিছু উদ্যোগ বিশেষ করে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক ফ্লো বা ডাইভারশন বা মেডিফিকেশন করার ফলে এখন গতি আবার বেড়ে ১০ কিলোমিটার হয়েছে।’
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ফলে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ঢাকার রাস্তায় চলাচলে গতি বেড়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরওয়ার। সূত্র জাগো নিউজ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত