ফার্স্ট সিকিউরিটি ও ইউনিয়ন সম্মত, রাজি নয় এক্সিম

Passenger Voice    |    ১১:১৯ এএম, ২০২৫-০৯-০৪


ফার্স্ট সিকিউরিটি ও ইউনিয়ন সম্মত, রাজি নয় এক্সিম

৫ ব্যাংক একীভূতকরণ কার্যক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক সম্মতি জানালেও রাজি নয় এক্সিম ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্যোশাল ইসলামী এবং বিকেলে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী দুর্বল ৫ ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে এসব ব্যাংকের একীভূতকরণের সব কাজ শেষ হয়েছে। কার্যক্রমের শেষ ধাপ হিসেবে ৫ ব্যাংকের সঙ্গে শুনানি বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা থাকলেও গভর্নর অসুস্থ থাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয় দিন সোমবার সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে মঙ্গলবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন গভর্নর। গতকাল সকালে ইউনিয়ন ব্যাংক এবং বিকেলে পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন গভর্নর। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূতকরণ কার্যক্রমে সম্মতি জানালেও রাজি নয় এক্সিম ব্যাংক।

এক্সিম ব্যাংক একীভূতকরণের পরিকল্পিত পরিকল্পনায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর পরিবর্তে এক্সিম ব্যাংক নিজস্ব পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকালের বৈঠকে গভর্নরের কাছে তারা তাদের রোডম্যাপও উপস্থাপন করেছে। বৈঠকে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং এমডি ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের চারজন ডেপুটি গভর্নর এবং রেজ্যুলেশন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক শেষে এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘আমরা কীভাবে এগিয়ে যেতে চাই তার রূপরেখা তৈরি করেছি। আমাদের কিছু তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বিমত পোষণ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও স্পষ্টতা চেয়েছে, যা আমরা পরবর্তী আলোচনায় দেব।’ পরবর্তী বৈঠক কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা এখনো ঠিক করা হয়নি।

বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আজকের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আমি জানি না। সবগুলো ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানাবে।’

তবে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এক্সিম ব্যাংকের পক্ষ থেকে যেসব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে, তার অনেক কিছুই সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন গভর্নর। এ সময় তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, আপনারা আমাদের উদ্যোগে সহযোগিতা করবেন। এ সময় এক্সিম ব্যাংকের প্রস্তাবিত পুনরুদ্ধার কৌশল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’

গতকাল সকালে ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত মঙ্গলবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গেও বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। উভয় ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্ণিত একীভূতকরণ পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক্সিম ব্যাংক বর্তমানে ৯১০ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির সম্মুখীন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ব্যাংকটির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, যা তার মোট ঋণের ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা পেয়েছে, যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটি দেশব্যাপী ১৫৫টি শাখা পরিচালনা করছে, যার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন।