শিরোনাম
Passenger Voice | ০২:৫৯ পিএম, ২০২৫-০৮-১১
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। কিন্তু বিগত বছর ও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও নানা কারণে বারবার কনটেইনার জটের কবলে পড়ছে এই প্রধান সমুদ্রবন্দর। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
গত বছর ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা আন্দোলন, ঘূর্ণিঝড়-বন্যা, লাইটার জাহাজ ও পণ্যবাহী পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে একাধিকবার কনটেইনার জট দেখা দিয়েছিল বন্দরে। চলতি বছরও একই চিত্র।
এ বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা আসে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের ডিসি পার্কে পণ্য পরিবহন শ্রমিক ও গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। পরদিন দুপুর থেকে তিন দিনের কর্মবিরতিতে যান প্রাইম মুভার শ্রমিকরা। এতে বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে পারেনি কোনো গাড়ি। ফলে কনটেইনার জট তৈরি হয়।
মার্চে এসে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনার ডেলিভারি না নেওয়ার কারণে চার গুণ মাশুল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ডেলিভারি বেড়ে যায়, জট কিছুটা কমে। কয়েক মাস পরিস্থিতি ভালো থাকলেও মে মাসে আবার শুরু হয় বিপত্তি।
২১ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্তির অধ্যাদেশের প্রতিবাদে কলমবিরতি শুরু করেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুনে তারা পালন করেন ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি। এতে কাস্টমস কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ে, বিপাকে পড়েন সিএন্ডএফ এজেন্টসহ ব্যবসায়ীরা। বন্দরে ফের কনটেইনার জট দেখা দেয়।
ধাক্কা সামলাতে কোরবানির ঈদের পর ১১ ও ১২ জুলাই শুক্র ও শনিবার কাস্টম হাউস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ১১ জুলাই বিশেষায়িত সফটওয়্যার অ্যাসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম আপডেটের কারণে শুল্কায়ন হয়নি। সেদিন সিএন্ডএফ এজেন্টরা উপস্থিত থাকলেও কর্মকর্তারা কম্পিউটারে কোনো কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি।
আগস্টে যুক্ত হয় নতুন সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ৮ জুলাই বাংলাদেশের জন্য ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। রপ্তানিকারকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে ৩১ জুলাই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। যেটা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। তবে এ শুল্ক এড়াতে অনেকে ৭ আগস্টের আগে পণ্য জাহাজে তুলতে চেষ্টা চালান। ফলে ১ আগস্ট থেকে বন্দরে কনটেইনার স্তূপ বাড়তে থাকে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, ১ আগস্ট বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার ৬৭৮ টিইইউএস। ৪ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪ হাজার ২৮৭ টিইইউএসে। ৭ আগস্ট কনটেইনার সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৬৩৩ টিইইউএস। ১০ আগস্টের হিসাবে ইয়ার্ডে রয়েছে ৪৫ হাজার ২৭৩ টিইইউএস কনটেইনার।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরে ৫৩ হাজার ৫১৮ টিইইউএস কনটেইনার রাখার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে তা ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক এড়াতে অনেকে আগেভাগে রপ্তানি পণ্য পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি আমদানি বেড়েছে, কিন্তু ডেলিভারি কমেছে। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার ছুটির দিনে ডেলিভারি কম হয়। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু বলেন, ‘আমরা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশে। বিভিন্ন আন্দোলন বা কর্মসূচি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে। অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে বন্দর, কাস্টমস, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের আন্দোলন, পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টদের গাড়ি বন্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ- সব মিলিয়ে কনটেইনার জট হয়। এটা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভালো নয়, বরং বিশ্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি চার গুণ মাশুল আদায়ের সিদ্ধান্তও যৌক্তিক নয়। তাই কেন জট তৈরি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধান বের করতে হবে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত