শিরোনাম
Passenger Voice | ১০:৪৪ এএম, ২০২৫-০৭-১২
পণ্য পরিবহন খাতে অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহন মালিকরা। তাদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত ব্যবসা পরিচালনাকে আরও জটিল করে তুলবে এবং অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
পণ্য পরিবহন মালিকরা বলছেন, সম্প্রতি সরকার ঘোষিত বাজেটে পণ্য পরিবহন খাতে অগ্রিম আয়কর গাড়িভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত পরিবহন খাতের ওপর একধরনের অর্থনৈতিক নিপীড়ন। এতে শুধু মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, প্রভাব পড়বে সামগ্রিক পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায়। পণ্য পরিবহন খাতে এমনিতেই জ্বালানি, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেড়েছে। তার ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হলে স্বাভাবিক পরিবহন কার্যক্রম চালানো ব্যাহত হবে। তাই সরকারকে আলোচনার মাধ্যমে একটি যৌক্তিক কর কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান তারা।
জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে সরকার প্রাইম মুভার গাড়িতে ১১ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩৫ হাজার টাকা, ৫ টনের বেশি ট্রাক ও লরিতে ১৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা, দেড় টনের বেশি ট্রাক ও লরিতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং পিকআপে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বাড়িয়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পণ্য পরিবহন মালিকদের বড় সংগঠন বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন। তারা আয়কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই কথা জানিয়েছেন আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি এবং চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ বলেন, ‘৫-৬ বছর ধরে খুচরা যন্ত্রাংশসহ পণ্য পরিবহনের গাড়ি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে এমনিতেই পণ্য পরিবহন খাতের অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। আয়-ব্যয় সমন্বয় করতে না পেরে অনেকে গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ির ওপর নতুন করে আয়কর বাড়ানো এ খাতের গাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের পথে বসানোর উপায় ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারের উচিত, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পণ্যপরিবহন মালিক বা তাদের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করা। ইচ্ছেমতো আয়কর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এ সিদ্ধান্ত সব পণ্য পরিবহন মালিকের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। বন্দর ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে আমরা এখনো কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘পরিবহন খাতে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হয়। কিন্তু এ আয়করের পরিমাণ বাড়ালে পরিবহন ব্যবসায় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে। পরিবহন খাতে কোনো ধরণের শৃঙ্খলা নেই। আগেও আমরা বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করলেও কেউ পূরণ করেননি। সবকিছু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখনো তাই। আমাদের মূল কথা হলো, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ বিভিন্ন করের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও অন্যান্য ফি প্রত্যাহার করে একক ডকুমেন্টের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভাড়ায়চালিত গাড়ির অগ্রিম আয়কর সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনতে হবে এবং ট্যাক্স টোকেন ফি অর্ধেক করতে হবে। পণ্য পরিবহন খাতে শুধু মালিক নন, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন হাজার হাজার শ্রমিক। মালিকরা যদি কর্মসূচি দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন, এতে বিপাকে পড়বেন গাড়ির চালক ও সহযোগীরা।’
বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ‘পণ্য পরিবহন খাতে মালিক, শ্রমিক সবাই জড়িত। যাত্রী পরিবহন মালিকরা হুটহাট গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিতে পারেন। কিন্তু পণ্য পরিবহন খাতে তা সম্ভব হয় না। কারণ এর সঙ্গে অর্থনীতি জড়িত। এক দিন গাড়ি না চললে বাজারে ভোগ্যপণ্যের সংকট হবে, বন্দর অচল হয়ে পড়বে। আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। সরকার যে অগ্রিম আয়কর বাড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত