ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক: প্রশস্ত সড়কের সুফল সরু যমুনা সেতুতে এসে বিলীন

Passenger Voice    |    ১০:৩৭ এএম, ২০২৫-০৬-১৭


ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক: প্রশস্ত সড়কের সুফল সরু যমুনা সেতুতে এসে বিলীন

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কটিকে করা হয়েছে চার লেন। এর পরও ঈদুল আজহার সময় যাতায়াতে এ প্রশস্ত সড়কে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়, যার প্রধান উৎস ছিল যমুনা সেতু।

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কটিকে করা হয়েছে চার লেন। এর পরও ঈদুল আজহার সময় যাতায়াতে এ প্রশস্ত সড়কে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দেয়, যার প্রধান উৎস ছিল যমুনা সেতু। ঈদের ছুটি শেষে ফিরতি যাত্রায় গতকালও সেতু এলাকায় যানবাহন চলেছে ধীরগতিতে। প্রকৌশলীরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ চার লেন সড়কে সমস্যা না হলেও ‘‌সরু’ যমুনা সেতু তা সামলাতে পারছে না। এ সেতুর কারণেই এবারের ঈদ ছুটিতে মানুষ চার লেন সড়কের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

যমুনা সেতু চালু হয় ১৯৯৮ সালে। এটি নির্মাণের সময় রেলপথকে জায়গা দিতে গিয়ে কমিয়ে ফেলা হয় সড়কপথের প্রশস্ততা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদর্শ দুই লেনের প্রশস্ততা হয় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ মিটার। কিন্তু যমুনা সেতুর সড়কপথের প্রশস্ততা এখন আছে ৬ দশমিক ৩ মিটার। আদর্শ মানদণ্ডের চেয়ে বিদ্যমান সেতুর প্রতি লেনের প্রশস্ততা এক মিটারের বেশি কম।

ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের যে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে তার প্রশস্ততা যমুনা সেতুর প্রায় আড়াই গুণ, ১৫ মিটারের মতো। তাই প্রশস্ত সড়ক থেকে সরু যমুনা সেতুতে প্রবেশ করতে গিয়ে যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে ধীরগতিতে। এ থেকে তৈরি হচ্ছে যানজট, যা কখনো কখনো প্রকট আকার ধারণ করছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০১১ সালে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার ২৫০টি যানবাহন চলাচল করত বলে সওজের এক সমীক্ষা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। ২০১২ সালে করা ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রাক্কলন করা হয়, ২০১৫ সালে এ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজার ৬৮০টি, ২০২০ সালে ২৪ হাজার ৩৫০, ২০২৫ সালে ৩৩ হাজার ৯২০ ও ২০৩৪ সালে প্রতিদিন গড়ে ৫৭ হাজার ৩১০টি যানবাহন চলাচল করবে। বাস্তবে প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করার তথ্য পাওয়া গেছে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে।

যমুনা সেতু দিয়ে গত ৫ মে পারাপার হয় ৬৪ হাজার ২৮৩টি যানবাহন, যা এ-যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ গত শনিবার সেতু দিয়ে প্রায় ৫২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে যখন যানবাহনের চাপ বাড়ে তখনই সেতু এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয় বলে জানান এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. ওয়ালিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঢাকার জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত চার লেন রয়েছে। আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে টাঙ্গাইল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কিছু জায়গায় এখনো কাজ চললেও মূল চার লেন সড়ক ঢাকা-রংপুরের প্রায় পুরোটাজুড়েই। এ রুটে সড়ক এখন আর সমস্যা নয়। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের যে চাপ তা সামাল দেয়ার জন্য এ সড়কই যথেষ্ট। কিন্তু যমুনা সেতু যানবাহনের বাড়তি চাপ ঠিকমতো সামাল দিতে পারছে না।’

এলেঙ্গা-রংপুর চার লেন প্রকল্পের কাজের ধীরগতির কারণে গত ঈদুল আজহায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে বলে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘‌এলেঙ্গা-রংপুর সড়কের ৮৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। মূল চার লেনের প্রায় পুরোটা দিয়ে এখন যানবাহন চলতে পারছে। তাই এ সড়কের কাজের কারণে যানজট হচ্ছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। সড়কের কাজ হয়তো কিছুটা যানজট তৈরি করছে। কিন্তু এ সড়কে মূল সমস্যা যমুনা সেতু ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা।’

যমুনায় রেলের জন্য স্বতন্ত্র সেতু হয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সেতুর ওপর আর রেলপথের দরকার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেলপথ তুলে সেতুর সড়কপথ প্রশস্ত করে ফেলা উচিত।’

সম্প্রতি চালু হয়েছে যমুনা রেলসেতু। এখন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করছে বিদ্যমান বহুমুখী সেতু থেকে রেলপথ তুলে দেয়ার। সে জায়গায় সড়কপথ বানিয়ে যমুনা সেতুর প্রশস্ততা ‘আদর্শ মানে’ ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারাও।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘‌বিদ্যমান বহুমুখী সেতু থেকে রেলপথ তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’