শিরোনাম
Passenger Voice | ১১:৩৫ এএম, ২০২৫-০৫-৩০
উত্তরবঙ্গের একমাত্র প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার গাড়ি চললেও উৎসব এলে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে ইতোমধ্যে বাড়তি গাড়ির চাপ লক্ষ করা গেছে। আগে দুই ঈদের সময় এ মহাসড়ক পাড়ি দিতে যাত্রী ও চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তবে এবার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস খুলে দেওয়ায় ও এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজ অনেকাংশে শেষ হওয়াতে এবার উত্তরের ঈদযাত্রায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তির আশা করছেন।
তবে মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় ইন্টারচেঞ্জের নির্মাণকাজ ও হাটিকুমরুল থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনো চলমান আছে। এতে ওই জায়গাগুলোর কিছু কিছু পয়েন্টে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছেু। তবে এসব বিষয় আমলে নিচ্ছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যদিও যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে এবারও মহাসড়কজুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়ন থাকবে।
এদিকে সার্ভিস লেন না থাকার অজুহাত দেখিয়ে এই মহাসড়কের ওপর দিয়েই তিন চাকার ধীরগতির অবৈধ যান চলাচল করছে। বাসচালকরা মনে করেন, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও তিন চাকার অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আসন্ন ঈদে এগুলো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এসব ধীরগতির যান চলাচল বন্ধে তারা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
হাটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় কথা হয় সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘রয়েল ডাচ’ বাসের চালক খলিলুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মহাসড়কের অবস্থা অন্যান্য বছরের তুলনায় মোটামুটি ভালো আছে। তবে বগুড়া মহাসড়কে চার লেনের কাজ ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কাজ চলমান থাকায় কিছু কিছু জায়গায় সামান্য সমস্যা হতে পারে। তবে বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই।’
সুমনা খাতুন নামে বাসের এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা যাচ্ছি। এখন কোনো যানজট দেখছি না। ঈদের সময় কেমন হবে বলা যাচ্ছে না।’
বগুড়া থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ বাসের সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের মহাসড়কগুলোতে প্রকাশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন অবাধে চলাচল করে। কেউই বাধা দিচ্ছে না। পুরো মহাসড়ক এখন তাদের দখলে। তারা যেমন খুশি তেমনভাবে চালায়। এ জন্য বাসের চালকরা নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালাতে পারছে না। তিন চাকার যানের জন্য অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
বগুড়া থেকে ঢাকাগামী আরকে নামে একটি বাসের চালক আবদুল খালেক বলেন, ‘নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিন চাকার যানগুলো মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কারণে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া ওই যানগুলো যারা চালান তাদের বেশির ভাগই দক্ষ নন। তাদের প্রশিক্ষণও নেই। তারা হুটহাট ব্রেক করার কারণে বড় গাড়িগুলো সমস্যায় পড়ে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।’
স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কগুলোতে তিন চাকার যানবাহন ওঠা নিষিদ্ধ থাকলেও তারা অবাধে চলাচল করছে। এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ-প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।
সাউথ এশিয়ান সাব রিজিওনাল কোঅপারেশন (সাসেক-২) প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে। হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কাজ চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যেন যানজট না হয় সেজন্য ঈদের আগেই ঢাকা-পাবনা রোডের সার্ভিস লেনটি খুলে দেওয়া হবে।’
সাসেক-২-এর প্রকল্প পরিচালক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘এলেঙ্গা থেকে রংপুর মহাসড়কে প্রায় ৮৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো আন্ডারপাস, ফ্লাইওভার, ওভারপাস খুলে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরতে পারবে।’
হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রউফ বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর মহাসড়কের অবস্থা খুবই ভালো। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পশুর হাট কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই সভা করা হয়েছে। যানজটপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।’
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত