জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে ৬ ব্যাংক

Passenger Voice    |    ১২:১১ পিএম, ২০২৫-০৫-২৭


জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসছে ৬ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড।

এসব ব্যাংকের অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ নিয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

জানা গেছে, লুটপাটের শিকার ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২টি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আরও কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হবে। সব মিলিয়ে ১৮টি ব্যাংকে পর্ষদ পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছয়টি ব্যাংকের ফরেনসিক অডিটের কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। এই ছয়টি ব্যাংক নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে গতকাল এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৈঠক শেষে গভর্নর বলেন, আসছে জুলাইয়ের মধ্যে এই ব্যাংকগুলোকে সরকারি মালিকানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পুঁজি জোগান দেওয়া হবে। এরপর ভিত্তি শক্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী খোঁজা হবে।

তিনি বলেন, গত দেড় দশকে লুটপাট আর অনিয়মে যে পরিমাণ অর্থ খোয়া গেছে, তা ইতিহাসে বিরল। এ কারণে ভয়াবহ অবস্থায় একসময়ের ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোও। তুলনামূলক ছোট ব্যাংকের অবস্থা আরও খারাপ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ করায় এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড় তৈরি হয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ১০ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। আর বর্তমানে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১১ হাজার ৭০৯ কোটি।

ডিসেম্বর শেষে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ১৮ হাজার ৭২০ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি ব্যাংকটির। একই সঙ্গে মূলধন ঘাটতি ৭ হাজার ৭৯৯ কোটি কোটি।

ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গত ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। একই সঙ্গে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ১৫ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি গত ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিসেম্বর শেষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ২ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।