আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় প্রতিবাদ

Passenger Voice    |    ০৪:৫৯ পিএম, ২০২৫-০৫-২৬


আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় প্রতিবাদ

বি-গ্রেডে পুনঃবহালের দাবিসহ শিল্পনগরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের ১১ দফা দাবি আদায় না হওয়ায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ দফা যৌক্তিক দাবিগুলো মানা না হলে ঈদুল আজহার পরে রেলপথ, সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয় সভা থেকে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে আশুগঞ্জ রেল স্টেশনের ১ নং প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ এর আয়োজনে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আশুগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, ক্রীড়া সংগঠনসহ সাধারণ লোকজন সভায় অংশ নেন। এসময় বক্তারা আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের ১১ দফা দাবি দ্রুত বাস্তাবায়ন না না হলে রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলেন হুঁশিয়ারি দেন।

আশুগঞ্জ শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপতির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ, চরচারতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফাইজুর রহমান, উপজেলা জামায়াত আমীর মো. শাহজাহান প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, আশুগঞ্জ হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বন্দর নগরী। এখানে আটটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন চাকরির সুবাদে বসবাস করেন। এখানে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও আসন বরাদ্দ খুবই নগন্য। যার কারণে যাত্রীদের চলাচলে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাজস্ব আয় ভালো থাকার পরেও কয়েক বছর আগে কোন কারণ ছাড়াই স্টেশনটিকে ডি গ্রেড থেকে বি গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়। যার কারণে আশুগঞ্জ রেলস্টেশনকে বি গ্রেডে পুনঃবহাল। বি গ্রেডের সব সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়ন।

বক্তারা আরও বলেন, স্টেশন মাস্টার ও আধুনিক সিগনালিং সিস্টেমের ঘাটতির কারণে যাত্রী ওঠানামায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, টিকেট কেটেও যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে পারছে না তাই দ্রুত সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা। ঢাকা ও চট্রগ্রামগামী, সুবর্ণচর এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি, কালনী এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপিজের ব্যবস্থা , সুপেয় খাবার পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা, টিকিট কালোবাজারি ও স্টেশনে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে জি আর পি ফাড়ির ব্যবস্থা, রাত্রিকালীন আলো ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত লোকবলের ব্যবস্থা, প্রথম ও দ্বিতীয় প্লাটফর্মের পরিধি বৃদ্ধি ও টিনসেটের সম্প্রসারন, উন্নতমানের ভিআইপি বিশ্রামাগার স্থাপন, দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্টেশনের আউটারে ও রেলসেতু এলাকায় নিরাপত্তা বেস্টনী তৈরি করার দাবি জানান তারা।

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত দাবিগুলো মানা না হলে ঈদুল আযহার পরে রেলপথ, সড়কপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচী ঘোষনা করার হুসিয়ারী দেন বক্তারা।