ঈদে মহাসড়কে ১৩ চ্যালেঞ্জ ‘কনভয়ে’ চলবে পশুবাহী গাড়ি

Passenger Voice    |    ১০:৩৭ এএম, ২০২৫-০৫-১৯


ঈদে মহাসড়কে ১৩ চ্যালেঞ্জ ‘কনভয়ে’ চলবে পশুবাহী গাড়ি

ঈদুল আজহায় মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে ‘কনভয়’ব্যবস্থা চালুর পদক্ষেপ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এই ব্যবস্থার আওতায় সশস্ত্র নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো পশুবাহী গাড়ি রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঈদে মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত ও যাত্রী পরিবহনব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে অন্তত ১৩টি চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এ বিষয়গুলো নিয়ে তারা এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত ঈদুল ফিতরে ঘুরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করেছে। সে সময় অবশ্য চ্যালেঞ্জ ছিল মাত্র একটি। আসন্ন ঈদুল আজহায় চ্যালেঞ্জ দুটি। একটি হচ্ছে, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন-নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়টি, পশুবাহী ট্রাক বা যানবাহনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশ সেভাবেই জেলা পুলিশসহ অন্য সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, “ঈদুল আজহাকে ঘিরে পশুবাহী ট্রাক বা যানবাহনে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে এবার পশুবাহী যানবাহন সড়কের মাঝপথে যাতে কোথাও বিপদের শিকার না হয়, কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পরে কিংবা সড়কসংলগ্ন বিভিন্ন হাটের লোকজন যাতে বাগড়া দিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই ‘কনভয়’ব্যবস্থা চালু করা হবে।”

সড়কে শৃঙ্খলার প্রশ্নে হাইওয়ে পুলিশপ্রধান বলেছেন, ‘যানজটমুক্ত সড়ক এবং শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কসংলগ্ন কোনো স্থানে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ফড়িয়া, খামারি, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। ফিটনেসবিহীন যান চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ অভিযান শুরু হবে। পশুবাহী যানবাহনে ‘জিপিএস’ সিস্টেম সংযোজনের চিন্তা করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের যারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকবেন তাদের কাছে ‘লাইভ লোকেশন’ থাকবে। সার্বিকভাবে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে আসন্ন ঈদুল আজহায় সড়কপথ স্বস্তির ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা যায়।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময়ে সাধারণত বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। এই সময়ে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ বাড়ে। ঈদুল আজহায় বাড়তি চাপ দেখা দেয় কোরবানির পশুবাহী ট্রাক বা যানবাহনের কারণে। এতে একদিকে যেমন সড়কে দীর্ঘ যানজট দেখা যায়, অন্যদিকে এলাকা বুঝে ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে।

এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের বিশেষ সময়ে মহাসড়কে স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অন্তরায় হিসেবে মোটাদাগে অন্তত ১৩টি চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সড়ক বা সেতুর টোলপ্লাজায় অগ্রিম টোকেন না থাকা, অনলাইন বা মোবাইলে টোল পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকা, কোরবানির পশুর হাটের চৌহদ্দি নির্ধারণ না করা, নির্ধারিত চৌহদ্দি অতিক্রম করে হাট মহাসড়কে উঠে আসা, পশুবাহী গাড়ি উল্টোপথে চলা, লক্কড়-ঝক্কড় অতি পুরোনো ট্রাকে কোরবানির পশু বহনকালে নষ্ট বা বিকল হয়ে সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা, যানবাহনের তুলনায় রাস্তার সক্ষমতা কম থাকা, রাস্তার কোথাও কোথাও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়া, ঈদ মৌসুমে অদক্ষ চালকদের তৎপরতা। এ ছাড়া রয়েছে আরও বেশ কিছু কারণ। আরেকটি বড় সমস্যা হয়, শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টসগুলো একই দিনে একই সময়ে ছুটি দেওয়ার কারণে। একই দিনে একই সময়ে ছুটির ফলে মহাসড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে ডিআইজি (অপারেশনস) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহায় তথা কোরবানির পশুবাহী যানবাহন, হাট ইজারাদারসহ অংশীজনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই রোধে জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ প্যাট্রোল ও চেকপোস্ট বসানো হবে। মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

কনভয় কী: কনভয় হলো সশস্ত্র প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থায় অনেকসংখ্যক যানবাহনের দলবদ্ধ চলাচল। সাধারণত মোটরযান (স্থলপথ) বা জাহাজ (নৌপথে) পারস্পরিক সহায়তা এবং সুরক্ষা নিয়ে একসঙ্গে চলাচল করা। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অনেক সময় পর্যটকবাহী বেশ কিছু যানবাহনকে এ রকম একসঙ্গে ‘কনভয়’ব্যবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে থাকে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে গোলযোগপূর্ণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এলাকায় কনভয় খুব পরিচিত শব্দ বা ব্যবস্থা।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, আঠারো শতকের শেষের দিকে ফরাসি বিপ্লবের সময়ে বা পরে জলদস্যু থেকে নিরাপত্তা-সুরক্ষার জন্য ‘কনভয়’ নামে কার্যকর নৌবহর কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। কিছু কনভয়ে কয়েক শ বণিক জাহাজ থাকত। তবে কনভয়ের সবচেয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল স্প্যানিশ ট্রেজার ফ্লিটে, যা ১৫২০ থেকে ১৭৯০ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।