ঈদযাত্রায় সড়কপথে ১৫৯ স্থানে যানজটের শঙ্কা

Passenger Voice    |    ০৩:০২ পিএম, ২০২৫-০৫-১৪


ঈদযাত্রায় সড়কপথে ১৫৯ স্থানে যানজটের শঙ্কা

আসন্ন ঈদযাত্রায় সড়কপথে ১৫৯টি সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ স্পট চিহ্নিত করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ৪৯টি, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কে ৫৪, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ছয়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪২ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আটটি স্পট রয়েছে। গত সোমবার ঈদযাত্রার প্রস্তুতি-বিষয়ক এক সভায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময়ও এসব স্পটে যানজট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ভাঙাচোরা রাস্তা, হাটবাজার, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কারণে এসব স্পটে যানজট হতে পারে। যানজট এড়াতে স্পটগুলোয় প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কারকাজ ঈদের আগেই শেষ করা এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ঈদযাত্রা প্রস্তুতিমূলক সভায় ঢাকা-বাইপাস সড়ক, ঢাকা-জয়দেবপুর, ময়মনসিংহ সড়ক, ঢাকা-চন্দ্রা-এলেঙ্গা মহাসড়ক, এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-গোপালগগঞ্জ-খুলনা মহাসড়ক, ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কসহ দেশের জাতীয় মহাসড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলো ঈদের সাতদিন আগেই প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের সময় এ ১৫৯টি স্পটে যানজট হতে পারে ধরে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। এ কারণে স্পটগুলোয় যানজট হয়নি। শুধু যমুনা সেতু এলাকায় ঈদযাত্রার শেষ দিনে কিছুটা যানজট তৈরি হয়। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায়ও দীর্ঘ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষ ধাপে ধাপে ঢাকা ছেড়েছিল, যার ফলে যানজট কোথাও প্রকট আকার ধারণ করেনি। কিন্তু আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের চাপ একই সময়ে তৈরি হবে। আবার কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের কারণে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও বেশি থাকবে। এসব বিষয় ঈদুল ফিতরের তুলনায় কোরবানির ঈদে যানজট মোকাবেলাকে অপেক্ষাকৃত কঠিন করে তুলতে পারে। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও যানজটমুক্ত রাখাকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে অভিহিত করছেন তারা।

ঈদযাত্রার প্রস্তুতি-বিষয়ক সভায় সড়ক-মহাসড়কে কোথাও গরুর হাট না বসানো এবং একই সঙ্গে হাটের গরু যেন সড়কের ওপর চলে না আসে সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে-পরে তিনদিন করে পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের সামনে ব্যানার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নির্ধারিত গতিসীমা অনুযায়ী মোটরযান চলাচল নিশ্চিতে পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। টোলপ্লাজা যানজটমুক্ত রাখতে সার্বক্ষণিক ইটিসি বুথ চালু রাখার ওপর গুরুত্বরোপ করা হয়। এছাড়া গার্মেন্টসহ সব শিল্পকারখানার কর্মীদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা এবং বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।