শিরোনাম
দুদকের অভিযান
Passenger Voice | ০৪:৩০ পিএম, ২০২৫-০৪-২৪
দালালের দৌরাত্ম্য, গ্রাহক হয়রানি, বিশেষ সিলের মাধ্যমে কাজ আদায় ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়। এসময় বিশেষ সিলের সংকেতের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে পাসপোর্ট করা ও দালালদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের সখ্যতার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। বিকাশে টাকা লেনদেনসহ বেশ কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ কাগজপত্র পেয়েছে দুদক।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলমান রয়েছে।
এ সময় ঈশ্বরদীর কৌশিক বিশ্বাস বলেন, গতকাল সকালে এসে সারাদিন বসে থেকেও কোনো সেবা পাইনি, দালাল ধরিনি তাই কোন কাজ হয়নি। নতুন করে ফরম আবেদনের কথা বলছে। দুদক আসার পর আমার আগের ওই ফরমই জমা নিয়েছে। এতো অনিয়ম আর দুর্নীতি কোনো অফিসে হয় বলে জানা নেই।
পাবনা সদরের হাজিরহাট এলাকা থেকে আসছেন গাফ্ফার হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৪ দিন আগে আবেদন করলেও এখনো ছবি উঠানো হয়নি। সপ্তাহে তিন চারদিন ধরে পাসপোর্ট অফিসে ঘুরেও কোনো সেবা পাইনি। যেটা করতে সর্বোচ্চ ৩ দিন লাগে। আমি টাকা দেয়নি জন্য কাজ হয়নি। দালালের সঙ্গে এলে দ্রুত কাজ হয়। ঢাকা থেকে দালাল আমাকে ফোন দিয়ে বলে যে ৮ হাজার টাকা দাও আইডি কার্ড কিছু লাগবে না। পাসপোর্ট অফিসের ১০২ নম্বর রুমে যাও সব ঠিক হয়ে যাবে।
দুদকের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সুত্রধর বলেন, আজকে পাবনা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় এনফোর্সমেন্ট টিম দালালদের দৌরাত্ম্য, বিকাশে অর্থ লেনদেনের চিত্র পেয়েছি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দালালদের সঙ্গে বিশেষ সিলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। দালালদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের যোগসাজশও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গেও দালালদের বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে ও দালালদের মাধ্যমে যেসব কাগজপত্র আসে সেগুলো দ্রুত করে দেওয়া হয়। এই অফিসে এতই অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় যে একজন র্যাব কর্মকর্তাও পাসপোর্ট করাতে এসে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি পাসপোর্ট করাতে পারেননি। সব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। শেষ করে বিস্তারিত বলতে পারব।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আহসান উদ্দিন বলেন, এখানে কোনো দালাল চক্র নেই। সব নিয়মিত পরিচালনা হয়ে থাকে। দুদক অভিযান করছেন। দুদকের অভিযোগের বিষয়টি দেখা হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত