জামানত ছাড়া ৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন ছোট উদ্যোক্তারা

Passenger Voice    |    ০৩:১১ পিএম, ২০২৫-০৩-১৮


জামানত ছাড়া ৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন ছোট উদ্যোক্তারা

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিন) নেই এমন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণ নিতে জামানতও লাগবে না। তারা অন্য ব্যবসা-সংক্রান্ত সনদ দিয়ে এ ঋণ পাবেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই খাতের নতুন যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, সেখানে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা’ নামে একটি নতুন শ্রেণি যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশে এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২৯ সাল শেষে এসএমই খাতে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে যা আছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ। 

সোমবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (সিএসএমই) অর্থায়নের নীতিমালা বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। এ সার্কুলারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলনও করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিএমএসএমই অর্থায়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন তথা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির কর্মকর্তা, স্থানীয় চেম্বারের সদস্য, সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির মোট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির মধ্যে সিএমএসএমই খাতে মোট ঋণ ও অগ্রিম স্থিতির পরিমাণ ২০২৫ সাল শেষে ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে এবং প্রতিবছর অন্তত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যূনতম ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। 

কোন কোন উদ্যোক্তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন, নীতিমালায় তা-ও পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২-এর আলোকে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১ অনুযায়ী এই উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ইউবিআইডি), ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ডিবিআইডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) আছে, এমন শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান উদ্যোক্তা বা সেবাপ্রদানকারীরা ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা- এ তিন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা, যাদের জনবল পারিবারিক সদস্যসহ ১০ জনের বেশি নয়, তারা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই শ্রেণির উদ্যোক্তাদের টার্নওভারের শর্ত রাখা হয়নি। তবে তাদের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫ লাখ টাকার কম হতে হবে।

সিএমএসএমই খাতের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোগে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা এবং কুটির, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও মাঝারি উদ্যোগের উৎপাদনশীল খাতে সর্বোচ্চ (কুটির উদ্যোগে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা, মাইক্রো উদ্যোগে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সর্বোচ্চ ২৫ কোটি টাকা ও মাঝারি উদ্যোগে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা) ঋণসীমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাঝারি শিল্পউদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ১২১ থেকে ৩০০ কর্মী আছেন, এমন তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান অথবা এক হাজার কর্মী আছেন, এমন শ্রম ঘন শিল্পে এই ঋণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া মাঝারি শিল্পের মধ্যে সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০। উৎপাদন খাতের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মাইক্রো শিল্পে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা ও ক্ষুদ্র শিল্পে ২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। মাঝারি শিল্পের ট্রেডিং খাতে ১০ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র শিল্পের ট্রেডিং ও সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। অন্যদিকে মাইক্রো শিল্পের ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। কুটির শিল্পে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হবে।

ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিএমএসএমই খাতে সহায়ক জামানত ছাড়া ৫ লাখ টাকার বেশি এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় সহায়ক জামানত ছাড়াই ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি কর্তৃক জারিকৃত সার্কুলারের নির্দেশনা মোতাবেক ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সিএমএসএমই ঋণ আবেদনের সিআইবি চার্জ মওকুফ করা হয়েছে বিধায় গ্রাহকদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সিএমএসই ঋণ আবেদনের বিপরীতে এ চার্জ আরোপ করা যাবে না।

নতুন নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে অর্থায়ন সহজলভ্য করতে ন্যূনতম ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপে নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন ও নারী উদ্যোক্তা অর্থায়নবিষয়ক ভাউচার সরবরাহ করার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের অনুকূলে সহায়ক জামানতবিহীন ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই নীতিমালার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন এই নীতিমালা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই নীতিমালা কার্যকর হবে।