তিন কি.মি যেতে ৩ ঘণ্টা পার

Passenger Voice    |    ০৪:২৮ পিএম, ২০২৫-০৩-০৪


তিন কি.মি যেতে ৩ ঘণ্টা পার

রূপগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে ভোগান্তি নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।  ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ের মহাসড়কে ৫ থেকে ১০ মিনিটের রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী গোলাকান্দাইল হাট ও মঙ্গলবার গাউছিয়া পাইকারি কাপড়ের হাট হওয়ার কারণে এ ভোগান্তি বেড়ে যায় দ্বিগুণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব পৌরসভার আড়িয়াব থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের ১০ মিনিটের রাস্তায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। আর গোলাকান্দাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস কাঞ্চন সড়কের ১০ কিলোমিটারের রাস্তায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে যাত্রীদের। কখনো আবার যানবাহনের দীর্ঘ লাইন কাঁচপুর থেকে ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে যায়। ফলে চিরাচরিত সেই ভোগান্তি- যানজট।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। ট্রাফিক পুলিশের অব্যবস্থাপনা, অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড, ব্যাটারিচালিত রিকশাস্ট্যান্ড, লোকাল বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, সিগন্যালগুলোতে চতুর্মুখী গাড়ির চাপ, শিল্পকারখানার শ্রমিকদের চলাচলের চাপ, কাঞ্চন টোল প্লাজার অর্থ আদায়ে ধীরগতি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো- এই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। কখনো কখনো সড়কের উভয় দিকে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির ড্রাইভার ইঞ্জিন বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। এতে প্রায় সময়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এদিকে যানজট হলে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুণ।

উপজেলায় অসংখ্য শিল্পকারখানা থাকার কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মালবাহী ও যাত্রীবাহী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে এ মহাসড়ক দুটিতে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ৭ কিলোমিটারের বরপা, গাউছিয়া,  রূপসী, বিশ্বরোডের ৪টি স্পট থেকে প্রতিনিয়তই থেমে থেমে যানজট সৃষ্ট হয়। রূপসী-কাঞ্চন সড়কের রূপসী বাসস্ট্যান্ড দিয়ে সিটি গ্রুপের  মালবাহী ট্রাক ওঠানামা করার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনগুলো আটকে থাকে। সৃষ্টি হয় সীমাহীন ভোগান্তি। কখনো কখনো মহাসড়কের যানজটের কারণে মহল্লার ভেতরে সৃষ্টি হয় যানজট। ফলে হেঁটে যেতে হয় গন্তব্যস্থলে। সেই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা মহাসড়কে চলাচল করতে দেখা যায়।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলমান থাকায় যানজটের পাশাপাশি সৃষ্টি হয় ধুলাবালির প্রচণ্ড ঘূর্ণি। এতে পায়ে হেঁটে চলা পথচারী ও গাড়িতে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মালবাহী লরির চালক সাগর জানান, পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য প্রায় প্রতিদিন যাত্রাবাড়ী থেকে বরপা আসি। কিন্তু এই যানজটের কারণে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় মালিক বকাঝকা করেন। 

যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশকেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না। ভুলতার ফুটপাত উচ্ছেদ এবং গাড়িচালকরা নিয়মনীতি মানলে যানজট নিরসনে সহায়ক হবে।

মোটরসাইকেলচালক শাহজালাল জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন ধীরগতিতে চলে। প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এ সময় তিনি দ্রুত সড়ক প্রশস্ত করা এবং ট্রাফিক পুলিশের ভালো ভূমিকা পালন করার দাবি জানান।

সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী রাফা আক্তার জানান, বরপা থেকে কলেজে যেতে স্বাভাবিক অবস্থায় ২০ মিনিট সময় লাগলেও যানজটের কারণে সময় লাগে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা। মহাসড়কে যানজট থাকায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গ্রামের ভেতরের সড়ক ব্যবহার করতে হয়।

ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (টিআই) মো. আলী আশরাফ জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এই যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সকলের সচেতন হতে হবে। এই সমস্যা দূর করার জন্য হাইওয়ে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। আগের তুলনায় যানজট কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।