শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৫৮ পিএম, ২০২৫-০২-০৯
ট্রেনচালক ফরিদা আক্তারের স্বামী টুটুলকে নিয়ে লালমনিরহাট রেলস্টেশনের সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করেন। তাদের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। টুটুল লালমনিরহাটে বেসরকারি চাকরি করেন।
ট্রেনচালক ফরিদা আক্তার বলেন, চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই কাজটি আমি বেছে নিয়েছি। ছোট থেকে ইচ্ছা ছিল চ্যালেঞ্জিং পেশায় যাবো। ২০১৪ সালে ট্রেনচালক হিসেবে রেল বিভাগে যুক্ত হই। পরিবার যদি সাপোর্ট না করে তাহলে আপনি এ পেশায় আসতে পারবেন না। পাশাপাশি একজন পুরুষ ট্রেনচালকের সাপোর্ট প্রয়োজন রয়েছে। একজন নারী ট্রেনচালক হিসেবে সমাজে কে কী বললো সেটা দেখার বিষয় না। নারী হিসেবে যারা আমাকে ট্রেনচালকের সুযোগ করে দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। সবচেয়ে ছোট ৯ মাসের মেয়েকে রেখে আমি ট্রেন চালাতে আসি। কাজে বের হলেও তারা কোনোদিন বিরক্ত হয় না।
লালমনিরহাট রেল স্টেশনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন ফরিদা আক্তার। চার সন্তানের মা হয়েও তিনি বেছে নিয়েছেন ট্রেন চালানোর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশা। প্রথমে ভয় পেলেও এখন ট্রেনের স্টেশন থেকে স্টেশনে ছুটে চলার এই কাজটিকে ভালোবেসে ফেলেছেন। ২০১৪ সালে চাকরিতে যোগদান করে চাকরি জীবনের প্রায় ১০ বছর শেষ করেছেন।
ট্রেনচালক ফরিদা আক্তার নারী হওয়ায় তাকে প্রতিনিয়ত নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু কখনো দমে যাননি ফরিদা। ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি হলে, নিজেই তা সমাধানের সাহস দেখান তিনি। তার এই সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বে মুগ্ধ রেল কর্তৃপক্ষ।
লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় লোকো ইনচার্জ কাজী সুমন বলেন, নারীরা এখন আর ঘরের মধ্যে বন্দি নেই। তারা সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। নারী চালকদের কাজে কোনো গাফিলতি নেই। ফরিদার মতো নারীরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, কোনো পেশায় নারীদের জন্য অসম্ভব না। সাহস, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রতিটি বাধা জয় করা সম্ভব।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত