আমদানি পণ্য আলু এখন রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়

Passenger Voice    |    ১১:২৭ এএম, ২০২৫-০২-০৩


আমদানি পণ্য আলু এখন রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়ায়

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে নতুন আলু রপ্তানি শুরু হয়েছে। ৫৬ হাজার কেজির একটি চালান জাহাজে তোলা হচ্ছে গতকাল রবিবার। চালানটি যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। আমদানি পণ্য আলু রপ্তানি হওয়ার সুবাদে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগেও দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য আলু আমদানি করতে হয়েছিল। ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে দফায় দফায় আমদানি হয়েছে আলু। কিন্তু এবার পণ্যটি রপ্তানি হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত আলুর ভালো ফলন হওয়ায় রপ্তানি করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) কনটেইনারে জাহাজে তোলা আলুর চালানটি রপ্তানি করছে ঢাকার প্রতিষ্ঠান ‘এগ্রোটেক বিডি’। মোট ৫৫ হাজার ৯০০ কেজি আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়ার ‘এমএলএফ ট্রেডিং এসডিএন বিএইচড’-এর কাছে। এ চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাঠানোর দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্কাই সি ল্যান্ড শিপিং লাইন।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ থেকে নতুন আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর হয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছবে পণ্য চালানটি। এ বছর আলু রপ্তানিতেও বাম্পার হবে বলে ধারণা করছি।’

জানা গেছে, দেশে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, বগুড়া, জয়পুরহাট ও মুন্সীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি আলুর চাষ হয়েছে। দেশে উৎপাদিত আলু দিয়ে মেটানো হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ কখনো আলু আমদানি করেনি। তবে দেশের বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মো. শাহ আলম বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত আলু অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। নতুন আলু যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এবার কৃষকও ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি। তবে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোর থাকলে সুবিধা হতো, উদ্বৃত্ত আলু কোলস্টোরে রেখে ধীরে ধীরে রপ্তানি করা যেত। এবার বেশি আলু রপ্তানি হবে বলে আশা করছি। এতে কৃষক থেকে শুরু করে রপ্তানিকারকরাও লাভবান হবেন।’

আলু রপ্তানিকারক আরিফ আজাদ প্রিন্স বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে নতুন আলু রপ্তানি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আলু আবার বিদেশে রপ্তানি হবে এটা আমাদের জন্য সুখবর।’ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়াক অ্যান্ড এসএ লিমিটেডের ম্যানেজার অপারেশন মো. ইকবাল বাহার সৈকত বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও আমদানি পণ্যের তালিকায় ছিল আলু। এবার দেশের কৃষকরা বাম্পার ফলন করেছে ফসলটির। এতে আমরা স্বপ্ন দেখছি অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রপ্তানি করতে পারব আলু। আমরাও উত্তর বঙ্গের কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেছি। আলু সংগ্রহ চলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের চালান জাহাজে তোলা হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালদ্বীপ, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ভিয়েতনাম ও ব্রুনাইয়ে আলু রপ্তানি হয়। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় মালয়েশিয়ায়। চট্টগ্রাম দিয়ে ডায়মন্ড, কামবিকা, গ্রানোলা, কার্টিনাল, ম্যানিলা জাতের আলু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ডায়মন্ড ও গ্রানোলা জাতের আলুর চাহিদা বেশি।