মোংলা বন্দরে প্রকল্প অনুমোদনের আগেই বাড়ছে সময়

Passenger Voice    |    ০৩:৩২ পিএম, ২০২৫-০১-৩০


মোংলা বন্দরে প্রকল্প অনুমোদনের আগেই বাড়ছে সময়

মোংলা বন্দর সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প কাটছাঁট করে ২১৫ কোটি টাকা কমিয়ে আগামী রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) একনেকে আবার উত্থাপন করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একনেক সভা থেকে প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়। এ পর্যায়ে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এ পর্যায়ে সাততলার পরিবর্তে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। অপ্রয়োজনীয় কিছু খরচও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য খরচ ২১৫ কোটি টাকা কমেছে।’ যাচাই-বাছাই করতে প্রায় দেড় বছর লাগল কেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রকল্প পরিচালক মো. জহিরুল হকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তার কথা অনুযায়ী যোগাযোগ করা হলে মো. জহিরুল হক বলেন, ‘প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর দিক ঠিক রেখে প্রকল্পটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তাতে পাঁচটি পিকআপ গাড়ি থেকে তিনটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

একটি স্ক্যানার মেশিন বাদ দেওয়া হয়েছে। সাততলা বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কমিয়ে তিনতলায় আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা কমানো হয়েছে। এভাবে খুব বেশি প্রয়োজন নেই, এমন সব আয়োজন বাদ দেওয়া হয়েছে। তাতে খরচ কমেছে ২১৫ কোটি টাকা।’ এই কাজ করতে প্রায় দেড় বছর লাগল কেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ২০১৫ সালে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তখন চীন ফান্ড দিতে পারেনি। এরপর ইআরডি দেনদরবার করে। শেষ পর্যন্ত চীনের সাড়া পাওয়া যায়। তারপর প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনও করা হয়। কিন্তু সেই সভায় অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে প্রকল্পটি নৌ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ষেখান থেকে পরে পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার কারণে দেরি হয়েছে।’

পরিকল্পনা কমিশন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, প্রথমে প্রকল্পটির খরচ ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৭৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০১৬-এর জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। পরে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে যাচাই-বাছাই করে প্রকল্পটির খরচ ধরা হয় ৪ হাজার ২৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীনের ঋণ ধরা হয় ৩ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে খরচ করার সিদ্ধান্ত হয়। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২৩-এর জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলে তা ফেরত দেওয়া হয়। 

এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং একনেক সভার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি করে। সেই কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উপযোগিতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন কম্পোন্যান্ট ও প্রাক্কলিত খরচ যৌক্তিকীকরণ করে ৫ শতাংশের বেশি ব্যয় কমায়। তাতে খরচ কমানো হয় ২১৫ কোটি টাকা। ব্যয় নেমে আসে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ২২ লাখ টাকায়। এর মধ্যে চীনের ঋণ ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা ও সরকারি তহবিল থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল বা ডিপিপি পাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর আবার দ্বিতীয় পিইসি সভা করে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের ষষ্ঠ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।