রিজার্ভ কমে আবারও ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

Passenger Voice    |    ০১:০০ পিএম, ২০২৫-০১-২৪


রিজার্ভ কমে আবারও ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রেখে যাওয়া ডলারসংকট অনেকটাই কেটে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অব্যাহতভাবে বাড়ছে রেমিট্যান্স। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে রপ্তানি আয়ও। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সূচকের ওপর ভিত্তি করে বাড়ছে রিজার্ভও।

তবে বর্তমানে আমদানি ব্যয় বাড়ায় এবং আগের আমদানি করা পণ্যের অনেক বিল এখন পরিশোধ করায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ছে। ফলে রিজার্ভ বাড়ার গতি চলমান থাকছে না। অর্থাৎ কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের রিজার্ভ কিছুটা কমে ২০ বিলিয়নের নিচে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ২৫ দশমিক ২২১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ গণনার মান অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

চলতি বছরের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ ছিল ২১ দশ‌মিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। 

মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ্য আনুষ্ঠা‌নিকভাবে প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। সে সময় বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ানো হয়। আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে। আবার বিভিন্ন সোর্স থেকে ডলার যোগানের চেষ্টা করছে। তবে আগের দায় পরিশোধ করতে গিয়ে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে।