বিআরটি লেনে কোম্পানির বাস

Passenger Voice    |    ০১:১৪ পিএম, ২০২৫-০১-১৫


বিআরটি লেনে কোম্পানির বাস

গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের (বিআরটি) ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটারে বেসরকারি কোম্পানির আন্তজেলা বাস চলাচলের অনুমতি নেই। তবুও ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নজরদারির অভাবে বিআরটি করিডরে এখন বেসরকারি কোম্পানির বাস চলাচল শুরু হয়ে গেছে। এতে করে বিআরটি লেনে বিআরটিসির বিশেষায়িত বাস সার্ভিসটি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

নির্মীয়মাণ বিআরটি করিডরে বিশেষায়িত বাসসেবা চালু করার কথা থাকলেও ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড তা এখনো চালু করতে পারেনি। তাই গত বছরের ডিসেম্বরে গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে রাজধানীর গুলিস্তান পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করতে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ওপর। বিআরটিসিরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১০টি বাস দিয়ে বিআরটি করিডরে বাসসেবা চালু করা হয়েছে গত ১৬ ডিসেম্বর। বিআরটি কর্মকর্তারা এই বাসসেবাকে পরীক্ষামূলক হিসেবে দাবি করেছেন।

বিআরটিসির এই এসি বাসসেবায় গাজীপুরের যাত্রীরা প্রথমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও এখন অনেক অভিযোগ করছেন। তারা বলেন, বিআরটিসির বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্টার ছেড়ে যায় না। বাসের সব সিটে যাত্রী পূর্ণ না হলে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। এতে করে অফিসগামী যাত্রীদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। তা ছাড়া বিআরটি লেনে কোনো ব্যারিকেড না থাকায় যত্রতত্র সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও ঢুকে পড়ছে দেদার। মোটরসাইকেলচালকরা উল্টো লেনে ঢুকে পড়েন। এতে করে পুরো বিআরটি লেনে এখন এক হযবরল অবস্থা।

বিআরটি কর্মকর্তারা বলেন, এই অবস্থায় সুযোগ নিতে মাঠে নামছেন বেসরকারি বাস কোম্পানির মালিকরা। ইতোমধ্যে গাজীপুর পরিবহন বিআরটি করিডর দিয়ে তাদের বাস সার্ভিস শুরু করেছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তরে খবর নিয়ে জানা যায়, ‘চ্যালেঞ্জার’, ‘মাশাআল্লাহ’, ‘অভিজাত’সহ অন্তত ৫-৬টি পরিবহন কোম্পানির বাস ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিআরটি করিডর হয়ে গাজীপুর যাচ্ছে। 

বাস মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক কাজী জুবায়ের মাসুদ বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পে বেসরকারি কোম্পানির বাস চলাচল করবে কি করবে না এমন কোনো নির্দেশনা কিন্তু নেই। আবার আমরা রুট পারমিট পাব না, এমন কিছুও বলা নেই। তাই আমাদের অনেকে এখন বাস নামাতে আবেদন জানাচ্ছেন।’

বেসরকারি কোম্পানির বাস নামানোয় বিআরটিসির বাস সার্ভিস ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা যাত্রীদের। একই কথা বলেছেন বিআরটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সিটি পরিবহনের বাসগুলোর বিআরটি করিডর ব্যবহারের অনুমতি নেই। বিআরটি প্রকল্পে যেন কেবল বিআরটিসির বাসই চলাচল করতে পারে সে জন্য সহযোগিতা চেয়ে গত ৩০ নভেম্বর বিআরটি প্রকল্প থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগ থেকে আমরা তেমন সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমরা নিজেরাই ভলান্টিয়ার নিয়োগ করেছি। কিন্তু এতে ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের নিজস্ব কোনো ম্যাজিস্ট্রেটও নেই। তাই ভাবছি, আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা বিআরটিএ এবং জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটদের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব।’

এ বিষয়ে ডিএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট) মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি ডিএমপিতে এসেছে কি না আমার জানা নেই। তাই বিআরটি প্রকল্পে বাস চলাচলের বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না।’

রাজধানীবাসীর জন্য একটি সুলভ ও নিরাপদ গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১১ সালে রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-২০১৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ওই বছরই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর একনেকের সভায় বিআরটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। তবে নির্মাণ জটিলতায় টঙ্গী থেকে গাজীপুর অংশে এই প্রকল্প সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের গলার কাঁটা হয়ে গেছে। সপ্তম দফায় পিছিয়ে গেছে এর নির্মাণকাজ। 

বিআরটি প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে গতি ছিল না। চলতি ডিসেম্বরে উদ্বোধনের কথা থাকলেও সপ্তম দফায় পিছিয়ে গেছে এই প্রকল্প। প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। 

প্রকল্প পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, এয়ারপোর্ট থেকে শিববাড়ী গাজীপুর টার্মিনাল পর্যন্ত এ লাইনে ২৫টি বিআরটি স্টেশন থাকবে। এই স্টেশনগুলোর অবকাঠামো নির্মিত হলেও কারিগরি কোনো কার্যক্রম একটিতেও চালু করা যায়নি।