শাহজালাল বিমানবন্দরে ৬৭ প্রজাতির পাখি, ফ্লাইট চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি

Passenger Voice    |    ১২:২২ পিএম, ২০২৫-০১-০৯


শাহজালাল বিমানবন্দরে ৬৭ প্রজাতির পাখি, ফ্লাইট চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১৫-১২০ প্রজাতির পাখি বিচরণ করে। এর মধ্যে ৬৬-৬৭ প্রজাতি বিচরণ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায়, যার মধ্যে কয়েকটি আবার উড়োজাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ গবেষণা করেছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আয়োজিত গতকাল এক আলোচনা সভায় গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বেগ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশে সংঘটিত উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে উড়োজাহাজ চলাচল নিশ্চিতকল্পে করণীয় নির্ধারণ ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু।

ড. আনোয়ারুল হক বেগ বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় কত পাখি আছে, তার তথ্য আমরা জানি না। ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১৫-১২০ প্রজাতির পাখি বিচরণ করে। এর মধ্যে ৬৬-৬৭ প্রজাতির পাখি শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় বিচরণ করে। তবে সব পাখি ফ্লাইট চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মূলত পাঁচ-ছয় প্রজাতির পাখি ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সবচেয়ে ঝুঁকি তৈরি করে কালো চিল। এছাড়া পালিত কবুতরও অনেক সময় বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা বিমানবন্দর এলাকায় দেখা গেছে।’

বিমানবন্দরের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ১২৯টি স্থান পরিদর্শন করে গবেষণাটি চালানো হয় বলে জানান অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বেগ। তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনে ওই এলাকায় ৩ হাজার ৮৮৬টি হোটেল-রেস্টুরেন্ট পাওয়া গেছে, যার ২২ শতাংশ অস্থায়ী। ৭৫৩টি কাঁচাবাজার, ৬৬৩টি কসাইখানা ও ১ হাজার ৩৩৫টি বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র রয়েছে। রয়েছে প্রচুর গাছপালা, বিল, জলাধার, খাল, নদীও। সামগ্রিকভাবে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট পরিবেশ-প্রতিবেশের কারণে এলাকাটি চিল, কাকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখির বিচরণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।’

উড়োজাহাজ চলাচল সুরক্ষায় এ গবেষক পাখির খাবার ও প্রজনন এলাকাগুলো কমিয়ে আনার দিকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে এক উপস্থাপনায় পাখির কারণে উড়োজাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার কথা জানান বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের হেড অব সেফটি ম্যানেজমেন্ট এএএমএম শামসুজ্জামান। বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বার্ড স্ট্রাইকের ঝুঁকি অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে যেখানে ঝুঁকির হার দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে এ হার ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।’

দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় গত ২৯ ডিসেম্বর জেজু এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৯ জন প্রাণ হারান। উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিনে পাখির আঘাতের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসরকারি আকাশ পরিবহন সংস্থা নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার কর্মকর্তারা দেশের বিমানবন্দরগুলোয় পাখির বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে। গতকালের সভায় এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শাহজালালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে চিল প্রজাতির পাখি। এ-জাতীয় পাখির খাদ্যের একটা বড় উৎস বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র। বিমানবন্দর এলাকার বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্রগুলো স্থানান্তরের জন্য আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করছি। এর বাইরে আমাদের বার্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সিস্টেম রয়েছে। আমরা বিমানবন্দরের পাঁচটি এলাকায় সাউন্ড গান ব্যবহার করি। পাশাপাশি পাখি প্রতিরোধে লেজার লাইটও ব্যবহারের পরিকল্পনা করছি। এর বাইরে আমাদের শুটাররাও কাজ করে। আমরা পাখি হত্যার বিপক্ষে। তার পরও উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের সুরক্ষায় আমাদের কখনো কখনো এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হয়।’

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, ‘আকাশসীমায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বেবিচক ও এভিয়েশন স্টেকহোল্ডারদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ বিমান চলাচলের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ অব্যাহত রয়েছে।’ এ সময় তিনি স্টেকহোল্ডারদের ঝুঁকি শনাক্ত ও তা কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।