শিরোনাম
Passenger Voice | ০৩:৪৮ পিএম, ২০২৫-০১-০৪
টানা ৪১ দিন মসজিদে তাকবিরে উলার সঙ্গে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে পুরস্কার পেল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২৫ জন শিশু-কিশোর। তাদের প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে একটি করে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে তাদের পুরস্কারস্বরূপ বাইসাইকেল প্রদান করা হয়।
জানা যায়, গ্রামের শিশুরা যাতে মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর পরিচয় লাভে ও সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারে— এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটি এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় শর্ত ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোরদের দারুস সালাম জামে মসজিদ কমিটি গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে টানা ৪১ দিন ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করা। পুরস্কার হিসেবে তাদের প্রত্যেককে একটি করে বাইসাইকেল প্রদান করা হবে।
প্রতিযোগিতায় সাড়া দিয়ে প্রথম দিকে অন্তত ৩২ জন শিশু-কিশোর নামাজ আদায় শুরু করলেও চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত ২৫ জন শিশু-কিশোর টিকে থেকে বিজয়ী হয়েছে। শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিজয়ীদের হাতে উপহারের সাইকেল তুলে দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবেল উদ্দিন। নতুন বছরে উপহার পেয়ে উল্লসিত শিশু-কিশোররা।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কিশোর আবু ইফাজ জুনায়েদ ও মাসুদুল হাসান শিহাব বলে, আমরা পুরস্কারের জন্য নামাজ আদায় করিনি। আমরা নিজেদের জন্য নামাজ পড়েছি। তবে নতুন বছরে দারুণ উপহার পেয়ে আমরা উল্লসিত। তাছাড়া সাইকেলটি পেয়ে আমাদের প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সুবিধা হবে। আমরা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
দারুস সালাম মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, গ্রামের শিশুরা যাতে মসজিদে যেতে অভ্যস্ত হয়, নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং আল্লাহর পরিচয় লাভ ও সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারে সেজন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি আমাদের একটি সাহসী উদ্যোগ ছিল। আর্থিকভাবে আমাদের একটু হিমশিম খেতে হলেও শিশুদের নামাজি করতে পেরে এবং তাদের খুশি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
এই উদ্যোগের সমন্বয়ক হাফেজ কুতুব উদ্দীন বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো কোরআনের সেই বর্ণনা অনুযায়ী বাবা-মা এমন একটি সন্তান পাবে যে সন্তান হবে চক্ষু শীতলকারী। একই সঙ্গে সে সমাজের জন্যও একজন উপকারী বন্ধু হয়ে উঠবে। বিজয়ীরা একটানা ৪১ দিন ২০৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে নামাজ আদায় করেছে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসাব রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্তে নামাজের পর শিশু-কিশোরদের নাম রেজিস্ট্রেশন ও ইমামের স্বাক্ষর সংগ্রহ বাধ্যতামূলক ছিল। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকত তখন তার গণনা বন্ধ করে দেওয়া হতো। এভাবে নিয়মিত হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ২৫ জন বিজয়ী হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, সমাজে যখন অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, সেই সময়ে কিশোররা যদি মসজিদমুখী ও চরিত্রবান হয়, তাহলে সৎ ও ভালো মানুষ যেমন তৈরি হবে, তেমনি মা-বাবাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হতে পারবেন। এমন আয়োজন আমাদের সমাজে কিশোর গ্যাং মুক্ত করবে এবং শিশু কিশোরদের নামাজের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে।
এ সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. বেলায়েত হোসেন, উপজেলা হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আব্দুল কুদ্দুছ, আয়োজক সাংবাদিক মাসুদ আলম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলা উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত