আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ব্যাংক লেনদেন

Passenger Voice    |    ১১:৪৫ এএম, ২০২৪-১১-২৭


আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে বেড়েছে ব্যাংক লেনদেন

গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের ব্যাংকগুলোয় অর্থ লেনদেনে যে ভাটা পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ব্যাংক লেনদেনের প্রায় সব মাধ্যমে

গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের ব্যাংকগুলোয় অর্থ লেনদেনে যে ভাটা পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ব্যাংক লেনদেনের প্রায় সব মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্টে (আরটিজিএস) লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি), ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও বেড়েছে লেনদেন। তবে সেপ্টেম্বরেও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি চেক নগদায়ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে অর্থ লেনদেনের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

ব্যাংক নির্বাহীরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন ও সেটি দমাতে শেখ হাসিনা সরকারের নেয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে জুলাইয়ে ব্যাংক লেনদেনে স্থবিরতা নেমে আসে। এর ধারাবাহিকতা আগস্টেও বজায় ছিল। সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটায় লেনদেন বেড়েছে। তবে এখনো ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন জুনের আগের অবস্থায় ফেরেনি। বিশেষ করে ডজনখানেক ব্যাংকের তারল্য সংকট স্বাভাবিক লেনদেনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশের ব্যাংকগুলোয় গত জুনে চেকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। জুলাইয়ে এ লেনদেন এক ধাক্কায় ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। আগস্টে চেকের মাধ্যমে লেনদেন আরো কমে নেমে আসে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬০ কোটি টাকায়। সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয়েছে আরো কম, ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চেক নগদায়ন কমেছে প্রায় দশমিক ৬৫ শতাংশ। এটি ছাড়া অবশ্য সব মাধ্যমেই সেপ্টেম্বরে অর্থ লেনদেন বেড়েছে ব্যাংকগুলোয়।

দেশে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে বড় অংকের অর্থ লেনদেনের প্রধান মাধ্যম আরটিজিএস। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এ মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আগস্টে আরটিজিএসের মাধ্যমে ৪ লাখ ২৪৯ কোটি টাকা লেনদেন হলেও সেপ্টেম্বরে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ১৬১ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। লেনদেন ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়েছে ইএফটিতে। আগস্টে ইএফটি ব্যবহার করে লেনদেন হয়েছিল ৬৭ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে এসে ৭৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে গত জুনে ইএফটির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোয় ৯৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।

নগদ অর্থ উত্তোলন ও লেনদেনের জন্য জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর একটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এ দুটি মাধ্যমেও লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আগস্টে কার্ডভিত্তিক লেনদেন ছিল ৩৩ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে হয় ৩৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে লেনদেন বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। কার্ডের মতো ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনও বেড়েছে। আগস্টে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ৭৫ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৮০ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় ওঠে। বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

অর্থ লেনদেন বেড়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা হিসেবে পরিচিত এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) মাধ্যমেও। আগস্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় ওঠে। এক্ষেত্রে লেনদেন বেড়েছে ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চেয়েও বড় প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনে। আগস্টে এ মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ৫২ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে হয় ৬৬ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশেরও বেশি। সেপ্টেম্বরে ই-কমার্সে গ্রাহকদের ব্যয়ও বেড়েছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হয়ে এলে ব্যাংকে লেনদেন আরো বাড়বে বলে জানান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।  তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট ছিল দেশের নতুন ইতিহাস সৃষ্টির মাস। এ দুই মাসে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ছিল না। তাই এর বিরূপ প্রভাব ব্যাংকিং লেনদেনের ওপর পড়েছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ভালো ছিল। এ কারণে ব্যাংকগুলোয় লেনদেন বেড়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবশ্যই উন্নতি ঘটাতে হবে।’

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি দুই বছর আগের তুলনায় ভালো। রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। দেশের ব্যালান্স অব পেমেন্টের (বিওপি) ঘাটতি কমছে। ডলারের বিনিময় হার ও চাহিদাও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে না। এজন্য সবার আগে দেশকে স্থিতিশীল করা দরকার। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কঠোর হওয়া দরকার।’ খবর বণিক বার্তা