শিরোনাম
বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের এক বছর
Passenger Voice | ১০:৪৬ এএম, ২০২৪-১০-২৯
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বহু লেন টানেল উদ্বোধনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। কক্সবাজারের পর্যটন ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প কারখানাকেন্দ্রিক ভারী যানবাহনকে লক্ষ্য করে নির্মাণ হলেও টানেল দিয়ে এক বছরে পার হওয়া যানবাহনের ৭৭ শতাংশই ছিল হালকা যানবাহন। এই এক বছরে টানেলের মূল ট্রাফিক ছিল টানেল দেখতে আসা পর্যটকবাহী ও অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়ি।
২০২৪ সালে টানেল দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলের গড় ধরা হয় ১৮ হাজার ৪৮৫টি। কিন্তু ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানেল দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচল করেছে গড়ে ৩ হাজার ৯০০টি। এর মধ্যে সিংহভাগই প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও পিকআপ। যানবাহনের মধ্যে ১২ শতাংশের কিছু বেশি ট্রাক চললেও ভারী ট্রাক ও বাস কম থাকায় টোল আদায়ের হার আশানুরূপ ছিল না।
টানেলের টোল ব্যবস্থাপনার নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে টানেল দিয়ে চলাচল করা মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫২টি যানবাহনের মধ্যে ৮৯ হাজার ২০০টি অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৭৫ শতাংশই হালকা যানবাহন, ছোট-বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ট্রাক চলেছে ১২ হাজার ১৯৪টি (১২ দশমিক ৪ শতাংশ), বিভিন্ন সংখ্যক এক্সেল লোডের ট্রেইলার চলেছে ১ হাজার ৮৯১টি (শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ)। ছোট-বড় মিলিয়ে বাস চলেছে ১২ হাজার ৩৬৭টি (১০ শতাংশ)।
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘টানেল নির্মাণ হলেও এটিকে ঘিরে নানামুখী কর্মতৎপরতা শুরু হয়নি। পরিকল্পনাধীন সংযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামকে ঘিরে সম্ভাব্য শিল্পায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে টানেলের বহুমুখী ব্যবহার হবে।’
কর্তৃপক্ষ বলছে, টানেল দিয়ে চলাচল করা ৭৭ শতাংশ যানবাহন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস কিংবা পিকআপ। এসব হালকা যানবাহনকে সবচেয়ে কম হারে টোল দিতে হয়। প্রাইভেটকার, জিপ ও পিকআপকে ২০০ টাকা এবং মাইক্রোবাস চলাচলে টোল দিতে হয় ২৫০ টাকা। বিভিন্ন এক্সেল লোডের ট্রেইলার কিংবা ট্রাক বা বাসের টোলহার বেশি হলেও টানেলে এসব যানবাহনের চলাচল ছিল খুবই কম। এমনকি উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮-১৩ এক্সেল লোডের কোনো ট্রেইলার চলাচল করেনি। টানেল দিয়ে থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা (১৩ এক্সেল লোডের ট্রেইলার) টোল আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও হালকা যানবাহনের চলাচল বেশি হওয়ায় টোল খাতে আনুপাতিক হারে আয় হয়েছে অস্বাভাবিক কম।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০ কোটি ৬৭ হাজার টাকা চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং বাকি ৪ হাজার ৬১৯ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এরই মধ্যে চায়না কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে পাঁচ বছরব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণ, টোল আহরণ ও তিনটি স্ক্যানার মেশিন বসাতে ৯৮৩ কোটি ৮২ লাখ টাকায় একটি চুক্তি করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ২ শতাংশ সুদ ও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ চলতি অর্থবছর থেকে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধের কথা রয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষের।
নাম প্রকাশ না করে সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় লোকসানি বিনিয়োগ বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প। পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু কিংবা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে আসা টোল আদায়ের অর্থ দিয়ে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করা হলেও টানেলের আহরিত টোল দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব নয়। টোল আহরণ আশানুরূপ না হওয়ায় অন্যান্য প্রকল্পের আয় কিংবা সরকারি কোষাগার থেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের ৩০ জুন টানেল প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও এটি ঘিরে সংযোগ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা অংশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেয়া কয়েকশ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজও এখনো শুরু হয়নি। তাছাড়া নদীর অন্য পাড়ের আানোয়ারা প্রান্তের সড়কগুলো টানেলমুখী যানবাহন চলাচলের জন্য এখনো উপযুক্ত নয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে টানেল দিয়ে প্রাক্কলিক যানবাহন চলাচল অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
প্যা/ভ/ম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত