ফিটনেস পেতে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে গাড়ীর হিড়িক, হিমশিম খাচ্ছে কর্তাব্যক্তিরা

Yasin Hoque    |    ০১:১৯ পিএম, ২০২০-০৬-০১


ফিটনেস পেতে চট্টগ্রাম বিআরটিএতে গাড়ীর হিড়িক, হিমশিম খাচ্ছে কর্তাব্যক্তিরা

ইয়াছিন হকঃ  টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পরে গতকাল ৩১ মে থেকে খুলে দিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। এরই মধ্যে গাড়ীর ফিটনেস গ্রহনে গাড়ী নিয়ে ভীড় করছে পরিবহনের মালিকরা। আজ সোমবার ১ জুন চট্টগ্রাম বিআরটিএ সার্কেলে ঘুরে দেখা যায় ফিটনেস গ্রহনের জন্য আসা যানবাহনের জন্য তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই কোথাও। হিমশিম খাচ্ছে যানবাহন পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা মোটরযান পরিদর্শকরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চালু হলেও শুধু গাড়ির ফিটনেস প্রদান কার্যক্রম চলবে। আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স এর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে নিশ্চিত করেছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান ইউছুব আলী মোল্লা।  

গত শনিবার এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সংস্থাটি। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,  বিআরটিএর মেট্রো এলাকা ও জেলা এলাকার সকল পেন্ডিং কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে। রুট পারমিট সনদ নবায়ন, অস্থায়ী মোটরযান চালানোর অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানো, মালিকানা বদলীর আবেদন,  মোটরযানের রেজিষ্ট্রেশন স্লিপ প্রদান সহ মোটরযানের ফিটনেস প্রদান কার্যক্রম চালু থাকবে। তবে ড্রাইভিং কম্পিটেন্সি টেষ্ট বোর্ড এর পরীক্ষা গ্রহন, লাইসেন্স ও রেজিষ্ট্রেশন এর বায়োমেট্রিক গ্রহন, মোটরযান রেজিষ্ট্রেশন পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

এরপর থেকে গাড়ীর ফিটনেস গ্রহন করতে সব বিআরটিএ সার্কেল গুলোতে ভীড় করছে পরিবহন মালিকরা। তবে এই সময়ে দালালের সংখ্যা কম হলেও কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বারবার মাইকে সচেতন করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ। সামাজিক দূরুত্ব না মেনে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে লম্বা লাইন হয়েছে। গাদাগাদি করে চেপেচুপে কে কার আগে ব্যাংকে টাকা জমা দিবে সে নিয়েও চলছে দৌঁড়ঝাপ। কোন ভাবে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএ সূত্র বলছে, মাত্র দুইজন মোটরযান পরিদর্শক ও একজন সহকারী মোটরযান পরিদর্শকের মাধ্যমে এই চাপ সামাল দিচ্ছে বিআরটিএ। তবে করোনা সংক্রমের প্রচুর ঝুঁকিতে রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল ৩১ মে একদিনে চট্টগ্রাম বিআরটিএ মেট্রো ও জেলা সার্কেলে ৭২৩ টি যানবাহনকে ফিটনেস প্রদান করে। এর মধ্যে সিএনজি অটোরিক্সা ও প্রাইভেট গাড়ীর চাপ একটু বেশি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিআরটিএ জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। টানা অনেকদিন সাধারণ ছুটি চলার কারনে অনেক যানবাহন ফিটনেসের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এদিকে সরকার জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত গাড়ীর কাগজপত্র নবায়নের জরিমানা মওকুফ করার ঘোষনা দিয়েছে। তাই একটু চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, বিআরটিএতে জনবল সংকট রয়েছে, এই সংকট সমাধান করা গেলে আমরা জনগণকে আরো বেশি সেবা প্রদান করতে পারবো।

এই বিষয়ে জানতে বিআরটিএর চট্টমেট্রো সার্কেলের ফিটনেস এর দায়িত্ব থাকা সহকারী পরিচালক বেগম রায়হানা আক্তার উর্থীর মুঠোফোনে  এই প্রতিবেদক বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।