অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভেতরই বিআরটিসিতে নিয়োগ, তদন্ত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

Passenger Voice    |    ০৪:১২ পিএম, ২০২৪-০৯-৩০


অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ভেতরই বিআরটিসিতে নিয়োগ, তদন্ত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে চেয়ারম্যান বলছেন, তাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খান রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

ওই নোটিশে মাহবুবুর রহমান খান উল্লেখ করেন, গত বছরের ৬ জুন বিআরটিসির কনট্রাকটর (গ্রেড-ডি) ও কাউন্টার ম্যান পদে ১৪১ জন নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ অস্থিতিশীল, তখন ১৬ জুলাই উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৮ জুলাই উক্ত পদে ২০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। উক্ত প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় প্রক্রিয়াটি বন্ধ থাকে।
 
এদিকে, গত ৭ আগস্ট রাষ্ট্র যখন সরকারবিহীন এবং সরকারি অফিস আলাদাত বন্ধ, ওই সময় পিও এল অ্যাটেনডেন্ট পদে ১০ জন, ২ জন বুকিং সহকারী ও ২ জন পিও এল সহকারীকে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেন তিনি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কার্যত, দেশের সব দাফতরিক কাজ বন্ধ থাকার পরও এহেন পরিস্থিতিতে তিনি নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় প্রমাণিত হয় যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা সময়ে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তদন্ত চেয়ে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী মাহবুবুর।

আইনজীবী মাহবুবুর জানান, বাংলাদেশ সড়ক- মহাসড়ক বিভাগ ছাড়াও বিআরটিসির বিভিন্ন দফতরে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়টিকে ষড়যন্ত্রমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তাজুল ইসলাম বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তুলে আমাকে হেনস্থার চেষ্টা করছে। আগে যেখানে বিআরটিসি শ্রমিকদের ৬ কোটি টাকা বেতন পরিশোধ করতে পারত না সেখানে আমি যোগদানের পর ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করছি।

তিনি আরও বলেন, এরপরও বিআরটিসি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তারা আমাকে অনেকদিন ধরেই ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। আমি বিষয়টি সচিব মহোদয়কে উপদেষ্টা মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করবেন।