বিআরটি প্রকল্পে শতকোটি টাকার ক্ষতি

Passenger Voice    |    ১১:৪০ এএম, ২০২৪-০৯-১১


বিআরটি প্রকল্পে শতকোটি টাকার ক্ষতি

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম একটি বড় কেন্দ্রে রূপ নিয়েছিল ঢাকার উত্তরা এলাকা। এ এলাকায়ই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করা এক প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম হারিয়ে প্রকল্পের প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য আজ ঢাকা বিআরটি কোম্পানির ৩৫তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিআরটি প্রকল্প ছাড়াও মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, হানিফ ফ্লাইওভার, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সব মিলিয়ে মহাসড়ক বিভাগের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

ঢাকা বিআরটি কোম্পানির তথ্য বলছে, ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরের বিভিন্ন অংশের অবকাঠামো ও নির্মাণাধীন বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে ২৩টি এস্কেলেটর, দুটি লিফট, দুটি জেনারেটর, পানির লাইন ও ইউটিলিটি সংযোগ। করিডোরের প্রায় ১০০ বর্গমিটার পেভমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পের সাইট অফিস ও নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত যানবাহন উপর্যুপরি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসবের বাইরে ১ হাজার ১০০ বর্গমিটার ওয়াল টাইলস, দুই হাজার বর্গমিটার এসএস রেলিং, আড়াই হাজার বর্গমিটার স্টিল শেড, ৬০০ মিটার স্টিল পাইপ, ৩ হাজার ১০০ কেজি ফর্ম ওয়ার্ক, ছয়টি ইলেকট্রিক হ্যামার, চারটি ওয়েল্ডিং মেশিন, দুটি পানির ট্যাংক, দুই এক্সক্যাভেটর, দুটি রোড কাটিং মেশিনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে।

গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট (বিআরটি বিমানবন্দর-গাজীপুর) প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণাধীন বিআরটি করিডোরের মূল কাঠামোর কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও সেতু বিভাগের অধীনে। এর মধ্যে মাটির সমান্তরালে (অ্যাট গ্রেড) ১৬ কিলোমিটার অংশ বাস্তবায়ন করছে সওজ অধিদপ্তর, যেখানে ১৯টি স্টেশন রয়েছে। ফ্লাইওভার দিয়ে সাড়ে চার কিলোমিটার উড়াল অংশ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এ অংশে স্টেশনের সংখ্যা ছয়।

ঢাকা বিআরটি কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, সওজ অধিদপ্তরের অংশে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৯০ কোটি টাকা। আর সেতু কর্তৃপক্ষের অংশে আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৯ কোটি টাকা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সওজ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন অংশে ৫৭টি এস্কেলেটর সাইটে রাখা ছিল। এর মধ্যে ৩৮টি এস্কেলেটর আক্রান্ত হয়েছে। পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯টি। সব মিলিয়ে শুধু এস্কেলেটরেই আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৫ কোটি টাকার বেশি। এর বাইরে সেতু কর্তৃপক্ষের অংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছয়টি এস্কেলেটর। এসব এস্কেলেটরের প্রতিটির দাম ৬৭ হাজার ডলার।

ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‌ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেছে। এটা আনুমানিক একটা হিসাব, চূড়ান্ত কিছু নয়। আমরা এ হিসাব মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। যাচাই শেষে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিআরটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‌প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। এ মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান। আমাদের মূল বিআরটি করিডোরের কাজ প্রায় শেষ। এখন আমরা বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছি। বাসগুলো বহরে যোগ হওয়ার পর পরই বিআরটি পরিষেবা চালু করে দেয়া সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয় ২০১২ সালে। নকশা আর দরপত্রের কাজ শেষ করতেই চলে যায় পরের চার বছর। ২০১৭ সালে শুরু হয় পূর্তকাজ, যা এখনো চলমান। করিডোরটির কাজ বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।