শিরোনাম
প্রগ্রেসিভ লাইফ
Passenger Voice | ০৩:৩৫ পিএম, ২০২৪-০৮-১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিনের আইন ও বিধি বহির্ভূতভাবে হত্যাচেষ্টা করে এবং চাকরি অবসায়ন পরবর্তী আর্থিক পাওনাদি পরিশোধের নির্দেশ দিলেও তা দিচ্ছে না কোম্পানি। এতে বিপাকে পড়েছেন জহির উদ্দিন। কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার আবেদন করেও পাওনা বুঝে না পেয়ে তাকে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়; নির্দেশনার পরও কোম্পানি তাকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না। ফলে অন্য কোম্পানিতেও যোগদান করতে পারছেন না তিনি।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই প্রগ্রেসিভ লাইফ থেকে জহির উদ্দিনকে ‘কোম্পানিতে প্রয়োজন নেই’ জানিয়ে বে-আইনি বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ ও তার ‘মাস্তান বাহিনীর’ নেতা কম্পিউটার অপারেটর বেলাল গংয়ের মাধ্যমে কোম্পানি থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, করা হয় হত্যা চেষ্টা। অভিযোগ আছে, জহির উদ্দিনকে বের করে দিয়ে কোম্পানির দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দখল করে নেয়া হয়। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন আইডিআরএ’র সদস্য (লাইফ) কামরুল হাসান ও পরিচালক (আইন) আব্দুল মজিদ।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, জহির উদ্দিন ১৯৯৩ সালে ন্যাশনাল লাইফে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর জীবন বীমা সেক্টরে ৩২ বছর মেধা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজ করেছেন। সর্বশেষ প্রগ্রেসিভ লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বজলুর রশিদ জহির উদ্দিনকে দিয়ে অনৈতিকভাবে প্রায় দুই কোটি টাকা বের করতে চায়। জহির উদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে এবং তার দায়েরকৃত মামলা নং ৩৭৫/১৪-এর বিপরীতে অপারগতা প্রকাশ করায় বজলুর রশিদ ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে উপর্যুক্তভাবে বের করে কোম্পানি বেদখল করে। এরসঙ্গে অদৃশ্য বোঝাপড়া ছিলো সদস্য লাইফ কামরুলের। যাকে কোম্পানির সিইও হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন বজলুর রশিদ। পরে নামে বেনামে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দেওয়া হয় আইডিআরএ, দুদক ও বিএসইসিতে। কর্তৃপক্ষ তার পরিচালক ও মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে। তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে কোনো অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ বলে জানায়। তারসাথে বিএসইসি দুবার তদন্ত করে সত্যতা পায়নি।
জহির উদ্দিনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১২ জুলাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আদেশক্রমে ছয় মাসের জন্য ৫ (পাঁচ) জন স্বতন্ত্র পরিচালক কোম্পানির পর্ষদের অন্তর্ভুক্তির আদেশ দেয় এবং বেশি দামে (Over value) জমি ক্রয় করে ১১৪ কোটি টাকা আত্মসাৎসহ কমিশনে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লোপাটে আইনানুগ ব্যবস্থাসহ বার্ষিক সাধারণ সভার ৬ মাসের মধ্যে করার জন্য আইনের নির্ধারিত ৪৫ কর্মদিবস সময় দেন। এর মধ্যে বজলুর রশিদ বেশ কয়েকবার জহির উদ্দীনকে জোরপূর্বক কোম্পানি থেকে বের করে কোম্পানি দখলে নিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। লাইফ সদস্য কামরুল হাসান জহিরের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষও দাবি করে, যা নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও ৭১ টিভিতে একাধিক রিপোর্ট হয়। এর ফলে কামরুল হাসানসহ কর্তৃপক্ষের একটি অংশ অর্থের বিনিময় বজলুর রশিদ দ্বারা হত্যা চেষ্টা করে, জোরপূর্বক বের করে কোম্পানি দখলে নেয়। বিষয় প্রথমে আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যান চুপ থাকলেও এবং সে জড়িত থাকলেও জহির উদ্দীনের অব্যাহত প্রতিবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি তদানিন্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব,আইন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মহোসহ বিএসইসি চেয়ারম্যান ও আইডিআরএ-এর চেয়ারম্যানের কাছে দুই শতাধিক আবেদন করলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে হতাশায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
২০২৩ সালের ৩১ জুলাই থেকে জহির উদ্দিনকে বীমা সেক্টরের চাকরি করতে দেওয়া হবে না বলেও নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে এবং আব্দুল মজিদ ও কামরুল হাসানের নিষেধাজ্ঞা দেয়। আইডিআরএ বাধ্য হয়ে ৫টি আদেশ পত্র দ্বারা প্রতিকার দিতে বললেও তার প্রতিকার হয়নি। এর সঙ্গে আইডিআরএর লাইফ সদস্য ছাড়াও, পরিচালক আইন, মোহা. আব্দুল মজিদ ও চেয়ারম্যান জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ জুন উভয় পক্ষের শুনানি করে জহিরের যৌক্তিক পাওনা ও অবমুক্তির সার্টিফিকেট দিতে বলা হলেও তা দিচ্ছে না প্রগ্রেসিভ লাইফের সিইও সাইদুল আমিন। এতে কর্তৃপক্ষের আদেশ লংঘন করে চরম ধৃষ্টতা এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক সংখ্যার আদেশ অমান্য করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গতকাল ১৫ আগস্ট জহিরের যৌক্তিক পাওনা ও অবমুক্তির সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষের পরিচালক আব্দুল মজিদ।
কর্তৃপক্ষের আদেশে বলা হয়েছে, জহির উদ্দিনের অবসর পরবর্তী আর্থিক পাওনাদি পরিশোধ না করার বিষয়ে গত ১১ জুন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত শুনানিতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড আপোষ মীমাংসার ভিত্তিতে আগামী এক মাসের মধ্যে জহিরের যুক্তিসঙ্গত আর্থিক পাওনাদি পরিশোধ করবে এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নিবেন জহির।
জহিরকে চাকুরি হতে অবমুক্তির সার্টিফিকেট (NOC) প্রদান করতে হবে। শুনানিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাযথ পালনপূর্বক কর্তৃপক্ষ বরাবর অবহিত করার জন্যও নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা গেছে, আব্দুল মজিদের সহযোগিতায় জাল সার্টিফিকেট নিয়েও প্রগ্রেসিভ লাইফের সিইও পদে বহাল রয়েছেন সাইদুল আমিন। এ জন্য উভয়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
তাছাড়া আব্দুল মজিদ আইনের ছাত্র হওয়ায় আইডিআরএ চেয়ারম্যান তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির জাল সার্টিফিকেটধারীদের নিয়োগে সহযোগিতাসহ নানা অপকর্ম করে আসছেন তিনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত