শিরোনাম
Passenger Voice | ১২:৪৯ পিএম, ২০২৪-০৮-১৭
একসময়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিমা প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দুই যুগ ধরে থাকা দখলদার ও লুটেরাদের হাত থেকে মুক্ত করতে তিন দিন ধরে মানববন্ধন করছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবারও (১৬ আগস্ট) ভুক্তভোগীরা ১১ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিমা কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক, স্পন্সর পরিচালক, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মেয়াদপূর্তি হওয়া বিমা স্কিমে পাওনাদার গ্রাহকরা।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যক্তিরা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দখল নেয়। দখলদাররা পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও নিকটাত্মীয় শেখ কবির হোসেনের পরোক্ষ মদদে ২০০৯ সালের শুরুতে বিমা কোম্পানিটির তোপখানা রোডের প্রধান কার্যালয়ের দখল নেয়। এরপর এক এক করে প্রথমে পর্ষদ চেয়ারম্যান ড. মোকাদ্দেছ হোসেন, পরিচালক নাজনীন হোসেন, হেলাল মিয়া, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও ফরিদা ইয়াসমিন, শামসুল হক, হোসনে জাহান ও স্পন্সর পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে পর্ষদ থেকে বিতাড়িত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দখলদাররা। এ ছাড়া তিন লাখ গ্রাহকের বিমা স্কিম মেয়াদপূর্তি হলেও তাদের দাবি পরিশোধ করেনি দখলদাররা। এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলে ভুক্তভোগীরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে পথে নেমেছেন।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীরা অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বরাবর দেওয়া পৃথক আবেদনে দখলদারদের হাত থেকে কোম্পানিটি মুক্ত করা ও বিমা দাবির অর্থ চেয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন ওই বিমা কেম্পানিটির প্রতিষ্ঠাকালীন স্পন্সর পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০০০ সালে বিমা কেম্পানিটি যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে মাত্র আট বছরে ওই সময়ের সেরা বিমা কোম্পানি ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে পেছনে ফেলে গ্রাহক সংখ্যা ও বিমার প্রিমিয়াম আয়ে দেশের শীর্ষ বিমা কোম্পানির মর্যাদা পেয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে দখলদারদের হাতে যাওয়ার পর তারা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লুট করে নেয়। বর্তমানে এই কোম্পানির কাঁধে ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ। কমবেশি তিন লাখ গ্রাহকের বিমা স্কিম মেয়াদ পূর্ণ হলেও তাদের বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়নি। এতদিন সালমান এফ রহমানের মদদপুষ্ট শেখ কবির হোসেন পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন। ২০২১ সালে শেখ কবির হোসেন নিজে কোম্পানিটির পর্ষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দখলদারদের ওই নেক্সাস মিলিতভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নিয়মনীতিবহির্ভূত সিদ্ধান্ত দিয়ে কোম্পানির আর্থিক ভিত ও ব্যবসার সুনাম ধ্বংস করে দেয়।
মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, সর্বস্তরের জনগণের দাবির মুখে সরকারের পতন হয়েছে। এখন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি জানান, কোম্পানিটি পুঁজিবাজারেও তালিকাভুক্ত।
মানববন্ধনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবৈধ। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদ করলে অসংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে।
ভুক্তভোগীদের ১১ দফা দাবিতে রয়েছে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সালমান এফ রহমানের মদদে অবৈধ দখলদার ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনসহ বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির ব্যবস্থা করা, চাকরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা, সালমান এফ রহমান ও শেখ কবির হোসেনের নিয়োগকৃত সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে চাকরি থেকে অপসারণ, গ্রাহকদের মেয়াদপূর্তির টাকা ও মরণোত্তর বিমা দাবি দ্রুত পরিশোধ করা, আত্মসাৎকৃত ৪ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভাইস চেয়ারম্যান ড. মো. ইব্রাহিম হোসেন খান এবং সব দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের সহযোগী, অদক্ষ, অযোগ্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আপেল মাহমুদকে অপসারণ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2019 - 2026 PassengerVoice | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Developed By Muktodhara Technology Limited.
পাবলিক মতামত