ঘুষ বাণিজ্য, নির্যাতন ও ক্ষমতার চাপ সবই করতো তারা

১০ কর্মচারীর ১০ বছরের নির্যাতন থেকে মুক্তি পাচ্ছে বিআরটিএ

Passenger Voice    |    ০২:২৫ পিএম, ২০২৪-০৮-১২


১০ কর্মচারীর ১০ বছরের নির্যাতন থেকে মুক্তি পাচ্ছে বিআরটিএ

এইচ এম হোসাইনঃ দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য , সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্যাতন ও জিম্মি করে টাকা আদায়, সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণসহ ডজনখানেক অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ'র ১০ জন কর্মচারী। তাদের প্রত্যেকের বাড়ী নোয়াখালী জেলায়। আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেই সময়ে ওই মন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে বিআরটিএ'তে যোগদান করা কর্মচারীরা গত ১০ বছর ধরে বিআরটিএ'র গুরুত্বপূর্ণ সার্কেল অফিস গুলোতে বদলী হয়ে সব ধরনের অপকর্ম চালিয়েছেন। 

বিআরটিএর সাবেক দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মশিউর রহমানের আমল থেকে তারা সবচেয়ে বেশি অর্পকর্ম করেন। বিআরটিএ'র মিরপুর সার্কেলের সব কিছু জিম্মি ছিল তাদের হাতে।  বিভাগীয় পরিচালক, উপপরিচালক-সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শকগণ তাদের কাছে জিম্মি ছিলেন। এইসব কর্মচারিদের কাছে দুর্বল ছিলেন বিআরটিএ'র চেয়ারম্যানগণও। গত ০৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে, ০৪ আগষ্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফলে ওবায়দুল কাদেরের এই দলবাজ কর্মচারিরা পালানোর সুযোগ পায়নি। তবে যেহেতু ওবায়দুল কাদেরের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী গৌতম চন্দ্র পাল সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি নিরাপদের শুধু বদলী করে এইসব কর্মচারীদের সেইফ করার চেষ্টা করছেন। 

বিআরটিএ'র নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সহকারী পরিচালক প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, বিআরটিএ'র এই সব কর্মচারীদের সাথে আগে থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান গৌতম চন্দ্র পালের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। তাদের এইসব অপকর্মে মন্ত্রণালয় থেকে গৌতম চন্দ্র পাল সরাসরি সহযোগিতা করতেন। 

আজ ১২ আগষ্ট বিআরটিএ'র ১৩২৯ নং আদেশমূলে বিআরটিএর অফিস সহকারী ঢাকা মেট্রে-১ সার্কেলের কাজী মজিবুল হক কে বিআরটিএ সদর কার্যালয়, সজিব হাসানকে ব্রাক্ষ্ণবাড়ীয়া, মো. হাসান বিন আজাদকে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম মেট্রো-১ সার্কেলের জামাল উদ্দিনকে বান্দরবান, চট্টগ্রাম মেট্রো-০২ সার্কেলের সৈয়দ কামরুজ্জামানকে কক্সবাজার, মো. আজীমকে ব্রাক্ষ্ণবাড়ীয়া থেকে সদর কার্যালয়ে বদলী করে বিআরটিএ। 

১৩৩০ নং আদেশ মূলে বিআরটিএ'র উচ্চমান সহকারী ইমদাদুল হক শামিমকে ঢাকা মেট্রো-০১ সার্কেল থেকে চাঁদপুর, তোফাজ্জেল হোসেনকে সদর কার্যালয়ে বদলী করে কর্তৃপক্ষ। একই সাথে আরেক আদেশে ঢাকা মেট্রো-৩ সার্কেলের মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট আবু বক্কর ছিদ্দিক ও ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলের কম্পিউটার অপারেটর আবু নাছেরের সংযুক্তি বাতিল করা হয়। 

তবে দলবাজ এই কর্মচারিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী করেছেন বিআরটিএর সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। বিআরটিএ'র এক সহকারী পরিচালক বলেন, অফিস সহকারী সজিব হাসান ঢাকা মেট্রো-২ সার্কেলে থাকা অবস্থায় তিনি সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) গোলাম হায়দার সরকারকে নির্যাতন করেছিলেন, তবে সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। 

বিআরটিএ'র পরিচালক প্রশাসন আজিজুল ইসলাম প্যাসেঞ্জার ভয়েসকে বলেন, আমরা যে সকল অফিস সহকারী-উচ্চমান সহকারীরা একই সার্কেলে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে তাদেরকে বদলী করেছি। এছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের রেকর্ড কিপার মো. তাসলিম মাহমুদ, অফিস সহায়ক শাকিবুল হক ইপ্তি, চট্টমেট্রো-০১ সার্কেলের অফিস সহকারী সৈকত পাল, চট্টমেট্রো-০২ সার্কেলের রেকর্ড কিপার জহিরুল ইসলাম। ফেনী সার্কেল অফিস সহায়ক দেবব্রত চন্দ্র ভৌমিক, ঢাকা মেট্রো-০১ সার্কেলের মালিকানা শাখার ঘুষ লেনদেনের ক্যাশিয়ার মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট রাকিবুল হাসান, কুমিল্লা বিআরটিএর অফিস সহকারী তানভীর হোসাইনসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দাবী করেছে সংশ্লিষ্ট সার্কেল গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।